প্রবাসে বসে কোটি টাকার প্রতারণা, ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট চক্র সক্রিয়
সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬ ৪:২২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট এবং নকল কাগজপত্র ব্যবহার করে প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মিনহাজ আহমেদ (৩০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার লক্ষীপুর মধ্যপাড়া গ্রামের আব্দুর সাত্তারের ছেলে সাঈদ আহমেদ।
তদন্তে জানা গেছে, মিনহাজ বর্তমানে পোল্যান্ডে এবং সাঈদ দুবাইয়ে অবস্থান করে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র পরিচালনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউরোপে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তারা সাধারণ মানুষ ও প্রবাস প্রত্যাশীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
চক্রটি ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট তৈরি করে ভিসার আবেদন দাখিল করে। আবেদন বাতিল হলে তারা নকল স্টিকার ভিসা তৈরি করে পাসপোর্টে সংযুক্ত করে দেয়। পরে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এর ফলে অনেক প্রবাসপ্রত্যাশী বিমানবন্দরে আটকা পড়ছেন, আবার কেউ কেউ বিদেশে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগে, টিপু সুলতান জানিয়েছেন, সার্বিয়ায় ভিসা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মিনহাজ তার কাছ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও ভিসা না দিয়ে টাকা ফেরত দেননি। টাকা চাইতে গেলে তাকে হুমকি ও গালাগাল সহ্য করতে হয়েছে। আরেক ভুক্তভোগী আরিফুল ইসলাম জানান, ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার পর তাকে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়েছে। এই প্রতারণার প্রমাণ হিসেবে একটি অডিও রেকর্ডও প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, এই চক্র সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া ও মেসিডোনিয়াসহ পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রতারণা চালাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশ থেকে বৈধ শ্রমবাজারও হুমকির মুখে পড়ছে।
সম্প্রতি ইউরোপের বিভিন্ন দূতাবাস ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে। ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট প্রদানের হার কমানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বিয়া, বসনিয়া ও রোমানিয়ায় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশি পাচারকারী চক্রের ডজনখানেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিলেটের কয়েকজন রয়েছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা পর্যায়েও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে এত অভিযোগের পরও চক্রটির মূলহোতা মিনহাজ আহমেদ এখনো ধরা পড়েননি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রতারণা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই দ্রুত এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
১৬৯ বার পড়া হয়েছে