যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা: স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড
সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬ ৪:০৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী জোসনা বেগমকে (২১) কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামী রাশেদ মোল্লা (৩১)-কে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদকে পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, অপর একটি ধারায় রাশেদ মোল্লাকে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে উভয় ধারার সাজা একসঙ্গে ভোগ করা যাবে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের সৈয়দ মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের জোসনা বেগমের সঙ্গে রাশেদ মোল্লার বিয়ে হয়। বিয়ের পর রাশেদের দাবিতে নগদ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জোসনার স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করেও টাকা নেওয়া হয়, যা রাশেদ মাদক সেবনে ব্যয় করতেন।
২০২০ সালের ১৬ জুলাই আবারও ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করলে তা দিতে অপারগ হওয়ায় রাশেদ ঘরের ভেতর জোসনার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে ১৭ জুলাই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার দিনই নিহতের বড় ভাই জলিল শেখ ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় রাশেদের বড় ভাই হাসিব মোল্লাকেও আসামি করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ১৪ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় আদালত হাসিব মোল্লাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় যৌতুক গ্রহণের অপরাধেও রাশেদকে দণ্ডিত করা হয়েছে। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
১২৫ বার পড়া হয়েছে