সর্বশেষ

সারাদেশ

কলাপাড়ায় তরমুজ চাষে ধস, লোকসানের শঙ্কায় দিশেহারা কৃষক

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া, পটুয়াখালী
এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া, পটুয়াখালী

সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬ ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের তরমুজ একসময় দেশজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিল।

বিস্তীর্ণ এলাকায় উৎপাদিত এই ফল দীর্ঘদিন কৃষকদের জন্য লাভজনক হলেও বর্তমানে লোকসান, পাইকার সংকট ও বাজারে দামের পতনের কারণে তরমুজ চাষীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। বিক্রি না হওয়া তরমুজ মাঠ ও মোকামে পড়ে থাকায় সহস্রাধিক কৃষক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।

জানা যায়, ঈদের আগে ও পরে কয়েক দফা বৃষ্টিতে তরমুজের ক্ষেত কাদায় পরিণত হয়েছে। এতে পাকা তরমুজে কাদা-মাটি লেগে নষ্ট হচ্ছে। ফাল্গুন মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিক না থাকায় উৎপাদন ও বাজার চাহিদা—উভয়ই নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। রমজানের শুরুতে কিছুটা চাহিদা থাকলেও বর্তমানে বাজার প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

কৃষকদের মতে, উৎপাদন ঝুঁকি, বাজারদরের অস্থিরতা, সেচসংকট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তরমুজ চাষ এখন আর আগের মতো লাভজনক নেই। টানা কয়েক বছরের লোকসানের ফলে এ অঞ্চলে তরমুজ আবাদে বড় ধরনের ধস নেমেছে। অনেক কৃষক চাষ কমিয়ে দিয়েছেন, আবার কেউ কেউ পুরোপুরি চাষ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন।

লালুয়া ইউনিয়নের চরচান্দুপাড়া গ্রামের কৃষক মো. ফেরদৌস তালুকদার জানান, তিনি এ বছর ৬৪ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন, যেখানে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ২১ লাখ টাকা। ফলন মোটামুটি ভালো হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তিনি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ঈদের দুই দিন আগে এক চালানে মাত্র ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পেরেছেন, যেখানে পরিবহন ও শ্রমিক খরচই প্রায় ৫০ হাজার টাকা। আরও কয়েকটি চালানের তরমুজ এখনো বিক্রি হয়নি। তিনি আশঙ্কা করছেন, অন্তত ১২ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হতে পারে।

নয়াকাটা গ্রামের কৃষক আ. কামাল হাওলাদার বলেন, ২৪ বিঘা জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন। ফলন ভালো হলেও সময়মতো বিক্রি করতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

কুয়াকাটার মমিপাড়া এলাকার কৃষক মো. নুর হোসেন মিয়া জানান, একসময় কুয়াকাটার তরমুজ সারা দেশে সমাদৃত ছিল। তবে টানা লোকসানের কারণে তিনি নিজে এবং এলাকার অনেকেই এখন তরমুজ চাষ ছেড়ে দিয়েছেন।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, যারা আগাম ফলন পেয়েছেন এবং রমজানের মধ্যে বিক্রি করতে পেরেছেন, তারা কিছুটা লাভবান হয়েছেন। তবে অধিকাংশ চাষী এখন লোকসানের চাপে দিশেহারা। অনেক ক্ষেতেই প্রত্যাশিত ফলনও হয়নি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে কলাপাড়ায় ৪ হাজার ৪৪৭ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যেখানে প্রায় তিন হাজার কৃষক যুক্ত রয়েছেন। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৪০৪ কোটি টাকা। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে অর্ধেকের বেশি কৃষক লোকসানের মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উপজেলা সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন জানান, গত বছর ৩ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়ে প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ৪০ টন ফলন পাওয়া গিয়েছিল। এ বছর আবাদি জমি বাড়লেও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ফলন কিছুটা কম এবং বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কৃষক লোকসানের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

১০৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন