হালুয়াঘাটে পাহাড়ি ঢলে ছয়টি গ্রাম প্লাবিত, ফসলি জমি তলিয়ে গেছে
সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬ ৯:৫৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে অন্তত ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
এতে বোরোসহ বিভিন্ন ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং কৃষকরা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে পাহাড়ি ঢলের পানি হালুয়াঘাটের বোরারঘাট নদীর বাঁধ ভেঙে গাজীরভিটা ইউনিয়নের গাজীরভিটা, বোয়ালমারা, মহাজনীকান্দা, পাগলাবাজার, পূর্ব কালিনিকান্দা ও আনচেংগ্রী গ্রাম প্লাবিত হয়। পানির নিচে তলিয়ে যায় বোরো ধান, ভুট্টা ও বাদামসহ অন্যান্য ফসল। নিচু এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।
পাশের ধোবাউড়া উপজেলায় নেতাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাবার ডেম সড়ক ভেঙে কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে কৃষকের ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, দুই বছর আগে বোরারঘাট বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই মসজিদ, কবরস্থান, রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
হালুয়াঘাটের আনচেংগ্রী গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, “কয়েক দিনের মধ্যে বোরো ধানে শীষ বের হতো, কিন্তু এখন সব পানির নিচে। দুশ্চিন্তা কাটছে না।”
বোয়ালমারা গ্রামের মোকলেছুর রহমান বলেন, “নদীর বাঁধ কয়েক বছর আগে ভেঙে গেছে, মেরামত না হওয়ায় বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দ্রুত পানি নিচু এলাকায় ঢুকে পড়ে। বাঁধটি দ্রুত মেরামতের দাবি করছি।”
ধোবাউড়া উপজেলার রনশিংহপুড়ের আজিজ মিয়া বলেন, “ভেঙে যাওয়া রাবার ডেম সড়কের কারণে পানি দ্রুত নিচু জমিতে প্রবেশ করছে। যদি পানি আরও কয়েকদিন থাকে, প্রচুর ফসল নষ্ট হবে।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপ-পরিচালক মো. এনামুল হক জানান, হালুয়াঘাটে অন্তত ২০০ একর এবং ধোবাউড়ায় ১০০ একর ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিদর্শন আজ সোমবার করা হবে এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাত বলেন, “বোরারঘাট বাঁধ স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য কাজ চলছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উজ্জ্বল হোসেন জানান, “ভেঙে যাওয়া রাবার ডেম সড়ক সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
১০৭ বার পড়া হয়েছে