মাগুরায় ডিজেল সংকটে কৃষক অনিশ্চয়তায়, অতিরিক্ত মজুদের অভিযোগ
রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬ ৯:৫৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মাগুরা সদর উপজেলার আঠারখাদা ইউনিয়নের ডগলাস নগর গ্রামের কৃষক ওসমান আলী পাটের বীজ বপণের পাঁচ দিন পরে সেচ দিতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
তবে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ডিজেলের সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও এটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন না। তাঁর মতে, বড় সমস্যা হলো সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত কেনাকাটা।
ওসমান আলী বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো যুদ্ধ পরিস্থিতিও আমাদের হাতের বাইরে। কিন্তু এই সময়ে কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার আশায় পাম্প থেকে কৌশলে বেশি তেল মজুদ করছেন। এতে সাধারণ কৃষকই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, “গত ২৭ মার্চ রাতে নড়িহাটিতে ইসমাইল মোল্লা (২২) নামে এক কৃষক ৯০০ লিটার ডিজেল অবৈধভাবে মজুদ করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। এতে তাকে পাঁচ দিনের জেল ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, কিছু মহল আতঙ্ক ছড়িয়ে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
সদরের নালিয়ারডাঙ্গী গ্রামের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক আক্কাস খান জানান, উৎপাদন মৌসুমে কৃষকদের সেচের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং কৃষকদের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। বর্তমানে প্রতি বিঘা জমিতে পাট চাষে অন্তত ৫ লিটার ডিজেল প্রয়োজন, যেখানে বোরো ধানে প্রয়োজন মাত্র ৩ লিটার। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যদি কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, তাহলে সমস্যার অনেকটা সমাধান সম্ভব।
সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেলায় প্রতিদিন প্রায় ১৭,৮০০ লিটার ডিজেল, ৮,৬৮০ লিটার পেট্রোল এবং ৬,৮৭২ লিটার অকটেন সরবরাহ করা হয়। তবে এই সরবরাহ সব পাম্পে সমানভাবে বিতরণ না হওয়ায় একই মালিকানার অধীনে একাধিক ফিলিং স্টেশন পরিচালিত হলে কিছু পাম্পে বেশি তেল সরবরাহ করে অন্য পাম্পে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত মজুদ তেল গোপনে জেলার বাইরে পাচার বা অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত না হলে বৈষম্য ও অনিয়ম বন্ধ করা কঠিন। তারা দ্রুত প্রশাসনিক তদারকি জোরদার এবং সমান বণ্টন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তবে জেলা প্রশাসন বা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
১১৮ বার পড়া হয়েছে