ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন নজরদারি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আহত বহু সেনা
রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬ ১:২৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ নজরদারি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই উড়োজাহাজটি মূলত আকাশপথে আগাম সতর্কতা ও নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হয়।
‘এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (আওয়াকস)’ প্রযুক্তিতে পরিচালিত এই উড়োজাহাজ শত শত মাইল দূর থেকে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান শনাক্ত করতে পারে। পাশাপাশি এটি যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শুক্রবারের এই হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার তথ্য অনুযায়ী আহতের সংখ্যা ১৫ জন হতে পারে।
এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত দুটি ‘কেসি-১৩৫’ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব উড়োজাহাজ মাঝ আকাশে যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান এবং নজরদারি উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে।
এক মাস ধরে চলমান ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে এই সম্মিলিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ১৩ মার্চ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, একই ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় মার্কিন বিমানবাহিনীর পাঁচটি রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যদিও সেগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি।
এদিকে ওই দিনই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরাকের আকাশসীমায় একটি মার্কিন কেসি-১৩৫ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হন। একই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত আরেকটি উড়োজাহাজ ইসরায়েলে জরুরি অবতরণ করে।
যদিও সেন্টকম দাবি করে, উড়োজাহাজটি শত্রু বা মিত্র কারও গুলিতে ভূপাতিত হয়নি, তবে ইরাকভিত্তিক ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’ নামের একটি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারাই উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করেছে।
ন্যাটো সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ‘আওয়াকস’ প্রযুক্তিসম্পন্ন একাধিক ‘ই-৩এ’ উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে জোটটি। এগুলো আকাশপথে নজরদারি, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধক্ষেত্র ব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগ রক্ষার কাজ করে।
বোয়িং–৭০৭ মডেলের পরিবর্তিত সংস্করণ এই উড়োজাহাজগুলো সহজেই চেনা যায়। কারণ, এর ওপর বসানো থাকে গম্বুজাকৃতির বড় রাডার ডোম। এতে থাকা উন্নত রাডার ও সেন্সরের মাধ্যমে অনেক দূর থেকে আকাশ ও ভূমির লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা সম্ভব।
এই উড়োজাহাজগুলো নিচু উচ্চতায় উড়ে আসা শত্রুবিমান শনাক্ত, তাদের গতিপথ অনুসরণ, পরিচয় নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সরবরাহ করতে সক্ষম। পাশাপাশি মিত্রদেশগুলোর যুদ্ধবিমানকে নির্দেশনা দেওয়া এবং সমন্বয় করাও এর অন্যতম কাজ।
শুধু আকাশ নয়, সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজ শনাক্ত ও নজরদারিতেও এসব উড়োজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংগৃহীত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে স্থল, জল ও আকাশে থাকা সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোতে পাঠানো যায়।
ন্যাটোর এই আওয়াকস বহর জার্মানিতে অবস্থিত ‘ন্যাটো এয়ারবর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল ফোর্স’ দ্বারা পরিচালিত হয়।
১২০ বার পড়া হয়েছে