মধুখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের নির্যাতনের শিকার কলেজ শিক্ষার্থী
বৃহস্পতিবার , ২৬ মার্চ, ২০২৬ ৫:৪১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের হাতে শাওন ইসলাম নাবির (২০) নামের এক কলেজ শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নাবির স্থানীয় সরকারি আইনউদ্দিন কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তার পরিবার। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মার্চ রাতে বাড়ি ফেরার পথে মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গাড়াখোলা এলাকার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম পলাশের ছেলে নাবিরকে রেলগেট এলাকা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় একদল কিশোর গ্যাং সদস্য। পরে তাকে উপজেলা চত্বরের কাছে অবস্থিত বেঙ্গল ক্লাবে আটকে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, ১০ থেকে ১২ জন কিশোর গ্যাং সদস্য তাকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে লোহার রড, লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় তারা নির্যাতনের ভিডিওও ধারণ করে। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ক্লাবঘরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় নাবিরকে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
নাবির অভিযোগ করেন, কলেজে ভিপি পদে নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় তার ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে।
এ ঘটনায় নাবিরের পরিবার ও সহপাঠীরা জানান, কিশোর গ্যাং লিডার গোলাম শারাফাত শরতের নেতৃত্বে এই নির্যাতন চালানো হয়। তারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নাবিরের বাবা জাহিদুল ইসলাম বলেন, তার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ করা হয়েছিল। তিনি গোলাম শারাফাত শরতসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কবির সরদার জানান, নাবিরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
অভিযুক্ত গোলাম শারাফাত শরত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ঘটনাটি জানতে পেরে ক্লাবে গিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। তার দাবি, একটি মেয়েকে উত্যক্ত করার ঘটনায় নাবিরকে মারধর করা হয়ে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান জানান, একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২৫ বার পড়া হয়েছে