কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অনুষ্ঠিত হলো অষ্টমীর পবিত্র স্নানোৎসব
বৃহস্পতিবার , ২৬ মার্চ, ২০২৬ ৮:৪৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় আচার, পবিত্র অষ্টমীর স্নানোৎসব, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে সম্পন্ন হয়েছে। ভোরের আলো ফুটতেই জেলার বিভিন্ন ঘাটে শুরু হয় পূণ্যস্নান।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর থেকে নাগেশ্বরীর নুনখাওয়া ঘাট, সদরের যাত্রাপুর ঘাট এবং চিলমারী উপজেলার জোড়গাছ ও রমনা ঘাটে কয়েক লাখ পূণ্যার্থী পবিত্র তিথিতে নদীতে স্নান করেন। স্নানের আগে অনেক ভক্তকে “ওঁ ব্রহ্মপুত্র মহাভাগ…” মন্ত্রোচ্চারণ করতে দেখা যায়, যার মাধ্যমে তারা পাপমোচনের প্রার্থনা করেন।
আয়োজক কমিটির তথ্যমতে, প্রতি বছর বাংলা চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে এই স্নান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এটি সাধারণত ‘অষ্টমীর স্নান’ নামে পরিচিত। এ বছর পবিত্র স্নানের সময় নির্ধারিত ছিল ভোর ৪টা থেকে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট এবং দুপুর ১২টা ০৩ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
উৎসবকে কেন্দ্র করে ঘাটগুলোতে নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। স্থানীয় প্রশাসন ও আয়োজকরা মিলিতভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেন। বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী চিকিৎসা সেবা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও স্বেচ্ছাসেবক টিম দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
নদীতীরে সৃষ্ট ভক্তিময় পরিবেশে দূর-দূরান্ত থেকে আগত ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে ব্রহ্মপুত্রের তীর। এটি কুড়িগ্রামের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশে পরিণত হয়েছে।
স্নান করতে আসা সুজন মোহন্ত বলেন, “ঋষি পরশুরাম মাতৃহত্যার পাপ মোচনের জন্য ব্রহ্মপুত্রে স্নান করেছিলেন। সেই প্রচলিত বিশ্বাস থেকে এই পবিত্র তিথিতে আমরা স্নান করি।”
রংপুর থেকে আগত পূণ্যার্থী আদিত্য চৌধুরী জানান, “প্রতিবছর পরিবারসহ এই পবিত্র স্থানে এসে স্নান করি। আমরা বিশ্বাস করি, এই তিথিতে স্নান করলে মনের পাপ দূর হয়।”
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “কুড়িগ্রামের এই বিশেষ স্নানোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা সার্বক্ষনিক মনিটরিং করছি।”
১১০ বার পড়া হয়েছে