সর্বশেষ

সারাদেশ

নাটোরে নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিডে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার মালামাল লুট

মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল, নাটোর
মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল, নাটোর

বৃহস্পতিবার , ২৬ মার্চ, ২০২৬ ৮:৩৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
নাটোরের বড়াইগ্রামে নির্মাণাধীন একটি পাওয়ার গ্রিড থেকে প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল বুধবার গভীর রাতে উপজেলার বনপাড়ায় নির্মাণাধীন ওই গ্রিডে কর্মরত চারজন পাহাড়াদারকে বেঁধে রেখে দুর্বৃত্তরা মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বড়াইগ্রামের পুলিশ।

গ্রিডের উপসহকারী প্রকৌশলী আনাস আলী জানান, গ্রিডে বর্তমানে সিভিল কন্ট্রাকশন ও ইলেকট্রিক ফিটিংসের কাজ চলছে। তাদের পক্ষ থেকে চারজন পাহাড়াদার নিয়োগ করা হয়েছে। ইলেকট্রিক অংশের কাজ করছেন চায়না ন্যাশনাল ওয়ার অ্যান্ড ক্যাবল ইমপোর্ট এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিসি কোম্পানি)।

সিসির স্থানীয় প্রতিনিধি প্রকৌশলী সোলায়মান আলী জানান, আমরা চায়না কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। আমাদের লুট হওয়া মালামালের তালিকা যাচাই করা হয়েছে। দেখা গেছে, ৩৬৮ পিস ব্যাটারি লুট করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এছাড়া ২ হাজার মিটার তামার তার লুট করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫৩ লাখ টাকা। অন্যান্য মালামালসহ মোট ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ৯২ লাখ ৬০ হাজার ২৮৯ টাকা।

তিনি আরও জানান, এখানে দুটি ডিভিয়ার দ্বারা সিসি ক্যামেরা পরিচালিত হতো। দুর্বৃত্তরা দুটি ডিভিয়ারই নিয়ে গেছে। একই সাথে পাহাড়াদারদের কাছে থাকা মোবাইল ফোনও লুট করেছে।

পাহাড়াদার আবুল কাশেম (৫৫) বলেন, “আমি, শফিকুল (৪৮), তার ছেলে সোহাগ (২৪) ও মছেদ আলী (৪২) পাহাড়াদার হিসেবে কাজ করি। সবার বাড়ি আশেপাশের এলাকায়। বুধবার সন্ধ্যায় আমি ডিউটিতে আসি, পরে অন্য তিনজন আসে। সাড়ে ৭টার দিকে শফিকুল খেতে যায়। বিশ মিনিট পরে গেট খোলার জন্য নক করলে খুলে দেই। এ সময় হঠাৎ পেছন থেকে ৫-৬জন শফিকুলের কলার ধরে ভিতরে নিয়ে আসে এবং বলেন, ছাত্তার নামে এখানে কে কাজ করে? এই নামে কেউ নেই জানালে তারা ঘরে চেক করার নামে চারজনকেই নিয়ে আসে। এ সময় হঠাৎ অস্ত্র বের করে আমাদের জিম্মি করে বেঁধে ফেলে। হাত, মুখ, চোখ, পা বেঁধে হুমকি দেয়, কোন শব্দ করলে প্রাণে মেরে ফেলবে। এরপর ভিতরে গাড়ি ঢোকা এবং কাজ করার শব্দ পাই। প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা পরে গাড়ি বের হয়ে যাওয়ার শব্দ পাই। অনেকক্ষণ শব্দ না পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে বেশ চেষ্টা করে সোহাগ তার বাবা শফিকুলের পা ও হাতের বাঁধন খুলে দেয়। পরে শফিকুল সবার বাঁধান খুলে দেয়। আমাদেরকে একটি ঘরে আটকে বাহির থেকে ছিটকিনি দিয়ে রাখা হয়েছিল। আমরা পর্দার স্ট্যান্ড খুলে ছিটকিনি খুলি এবং রাত সাড়ে ৪টার দিকে বের হই। এরপর আমরা বাইরে গিয়ে একজনের ফোন নিয়ে ৯৯৯-এ ফোন দেই। একই সাথে ইঞ্জিনিয়ার স্যারদেরও জানাই।”

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সুমন কুমার, বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শোভন চন্দ্র হোড়, বড়াইগ্রাম থানার ওসি আব্দুস সালাম এবং বনপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সুমন কুমার।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বড়াইগ্রাম সার্কেল) শোভন চন্দ্র হোড় বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনা উদঘাটনে ডিবি টিম কাজ শুরু করেছে। পিজিসিবির পক্ষ থেকে অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনায় জড়িতদের আটক এবং মালামাল উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।”

১৩৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন