মাদারীপুরে জমি বিরোধে ভয়াবহ হামলা: অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুসহ ৫ আহত
বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬ ২:৫৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করছে, সোমবার (২৩ মার্চ ২০২৬) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে হামলাকারীরা তাদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে মারধর, ভাঙচুর এবং স্বর্ণালংকার লুটপাট করেছে। এ ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুসহ ৫ ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।
ভুক্তভোগী বিলকিস বেগম জানান, হামলাকারীরা তার বাড়িতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করলে বাধা দিতে গিয়ে নিজে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হামলার শিকার হন। অভিযোগে বলা হয়, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বিলকিস বেগম গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে তার মেয়ে সুবর্ণা আক্তারকেও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়েছে। সুবর্ণার কোলে থাকা দুই বছর বয়সী শিশু সন্তানকেও আঘাত করা হয়েছে। এছাড়া অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে পপি আক্তার এবং আরেক মেয়ে সাদিয়া আক্তারকেও মারধরের শিকার করা হয়। সাদিয়ার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির অভিযোগও রয়েছে। হামলায় শিকার সকলকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা বাড়ির বারান্দার টিন ও জানালা ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করেছে এবং এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন (মূল্য আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বিলকিস বেগম এখনো চিকিৎসাধীন।
বিলকিস বেগম বাদী হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লোক মারফত সাইদুল বেপারী (৪৮), জাকির বেপারী (৩০), জাহিদ বেপারী (৩২), সাবিনা আক্তার (২৫), ফাতেমা আক্তার (২৬), ইয়াসমিন পেয়ারা (৩৫), জাহেদা বেগম (৪৮), জাহানারা (২২)সহ অজ্ঞাত আরো ৭-৮ হামলাকারীর বিরুদ্ধে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে, পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগে প্রমাণিত হওয়ায় মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা রুজু করা হয়। মামলার নং ৭০ তাং ২৪/২০২৬, যা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৩৫৪/৫০৬/১১৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ পরবর্তীতে এজাহারে নামীয় ১ নম্বর আসামি সাইদুল বেপারী ও ২ নম্বর আসামি জাকির বেপারীকে গ্রেপ্তার করে ২৫ মার্চ মঙ্গলবার মাদারীপুর জেলা মেট্রোপলিটন আদালতে পেরেণ করেন। পরে আদালত থেকে ২ নম্বর আসামী জাকির বেপারী জামিনে মুক্তি পান।
ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে, জাকির বেপারী জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা আরো জানায়, জমি সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে এলাকার কিছু দুস্কৃতকারী প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ ব্যক্তিদের প্ররোচনায় এই হামলা, ভাঙচুর ও মারপিটের মতো কাজে লিপ্ত থাকে চক্রটি।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের মধ্যে জাকির বেপারী, ফাতেমা, জাহেদা ও জাহানারাদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারির অভিযোগ রয়েছে। হরহামেশাই এই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নিকট মাদক সেবন ও মাদক কারবারিদের আনাগোনা দেখা যায়। অভিযোগ করা হয়, এই প্ররোচনায় তারা দলবদ্ধভাবে হামলার পরিকল্পনা করে। এই সংশ্লিষ্ট চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের কোনো পুরুষ সদস্য বাড়িতে না থাকার সুযোগে এই চক্রটি তাদের ওপর অতর্কিত প্রভাব ও হামলা চালাচ্ছে এবং ঘর-বাড়ি ভাঙচুর করছে।
১২৬ বার পড়া হয়েছে