ময়মনসিংহে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬ ৩:৩১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অষ্টধার ইউনিয়নের কাউনিয়া গ্রামে ৭ বছর বয়সী প্রতিবেশী নাতনিকে গ্যান্ডারি খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৬০ বছর বয়সী দাদার বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী এবং ভুক্তভোগী পরিবার।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেল ৩টায় কাউনিয়া গ্রামে একটি বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং আশেপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২০০ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নেন। মানববন্ধনে শিশুর বিচার চেয়ে ব্যানার হাতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৫টার দিকে কাউনিয়া গ্রামের ইছহাক সরকারের ছেলে হান্নান সরকার (৬০) ওই এলাকার ৭ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে গ্যান্ডারি খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টা খেতে নিয়ে যান। শিশুটির সঙ্গে আরও একটি শিশু ছিল। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ওই শিশু পালাতে সক্ষম হলেও, ভুক্তভোগী কাবিরী (ছদ্মনাম) আটকা পড়ে এবং সেখানে তাকে পাশবিকভাবে নির্যাতন করা হয়। অভিযুক্ত হান্নান ২ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক এবং শিশুটির দাদা।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয় কাউনিয়া রেলগেট থেকে এবং প্রদক্ষিণ শেষে অষ্টধার বাজারে শেষ হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান ইকবাল বলেন, "আমাদের সমাজে আজ শিশুরা নিজের দাদার কাছেও নিরাপদ নয়। হান্নানের একমাত্র শাস্তি ফাঁসি। প্রশাসন যদি কালো টাকার প্রভাবে তাকে ধরতে দেরি করে, আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হব।"
অন্য একজন বক্তা রুবেল হুসাইন বলেন, "ঘটনার ১২ দিন পার হলেও পুলিশ হান্নান সরকারকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলার এই অবনতি আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবিয়ে তুলছে।"
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "ঘটনার পর থেকেই একটি বিশেষ মহল আমাদের হুমকি দিয়ে আসছে। আমি আমার মেয়ের ওপর হওয়া এই পাশবিক নির্যাতনের সঠিক বিচার চাই।"
এর আগে ভুক্তভোগীর বাবা ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। মানববন্ধন শেষে বক্তারা দ্রুত হান্নান সরকারকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
১৩৬ বার পড়া হয়েছে