ইবি ভিসি নিয়োগ ঘিরে তদবির-দৌড়ঝাঁপ, বাড়ছে বিতর্ক ও প্রশ্ন
সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬ ৩:২১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর এ পদে নিয়োগকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তদবির ও দৌড়ঝাঁপ তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনিক মহলে চলছে ব্যাপক আলোচনা। একই সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।
গত ২৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অন্তত সাতজন শিক্ষক ভিসি পদের জন্য প্রতিযোগিতায় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগের কথাও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।
বিশেষ করে লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমানকে ঘিরে বিতর্ক বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে শৃঙ্খলাভঙ্গ, প্রশাসনিক অনিয়ম, অনৈতিক কর্মকাণ্ড, আর্থিক অসদাচরণ এবং ব্যক্তিগত আচরণসংক্রান্ত নানা অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক রাজনীতিতে বিভাজন সৃষ্টি এবং সময়ভেদে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়েছে।
অন্যদিকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের বিরুদ্ধেও নিয়োগ বাণিজ্য, একাডেমিক অনিয়ম এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি করছেন শিক্ষক সমাজের একটি অংশ। বিশেষ করে একটি ডায়েরি প্রকাশনা সংক্রান্ত ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন সময়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ড. এমতাজ হোসেন বলেছেন, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলো প্রশাসনিক পর্যায় থেকে নেওয়া হয়েছিল এবং ব্যক্তিগতভাবে তিনি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন।
এদিকে ভিসি পদে আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দুই জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান ও ড. আলীনুর রহমানের নামও আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেনসহ ইসলামী স্টাডিজ অনুষদের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক প্রফেসর ডক্টর ইদ্রিস আলীর নামও এই প্রতিযোগিতায় রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনায় এসেছে অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমানের একটি লিখিত বক্তব্য। এতে তিনি অতীতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আত্মসমালোচনা করে জাতীয়তাবাদী আদর্শে ফিরে আসার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন, একসময় জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী থাকলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ধারার কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন এবং বিএনপির রাজনীতির বিরোধিতা করেন। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে আদর্শিক অবস্থানে অটল থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে শিক্ষক সমাজে বিভাজন নয়, বরং ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আদর্শিকভাবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবেন। তাঁর এই অবস্থান পরিবর্তন বিশ্ববিদ্যালয় মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, ভিসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত যোগ্যতা, নৈতিকতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিবেচনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে এই নিয়োগ কতটা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন অনেকেই।
সামগ্রিকভাবে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগকে ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও যোগ্যতাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
১৪০ বার পড়া হয়েছে