সর্বশেষ

সারাদেশ

ঈদ শেষে মোংলায় তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের হতাশা, নেতাদের অবহেলায় নিভৃতে কান্না

মাসুদ রানা, মোংলা
মাসুদ রানা, মোংলা

সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬ ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ত্যাগের মহিমায় সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হলেও বাগেরহাটের মোংলায় ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে বিএনপির তৃণমূল কর্মীদের জীবনে। রাজপথের লড়াকু সৈনিক হিসেবে পরিচিত এসব কর্মীর অনেকের ঘরেই ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে নেতাদের অবহেলা ও উদাসীনতায়।

দীর্ঘদিন ধরে হামলা-মামলা ও কারাবরণের শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা তৃণমূলের কর্মীরা আশা করেছিলেন, ঈদের এই সময়ে অন্তত দলীয় শীর্ষ নেতারা তাদের পাশে দাঁড়াবেন। কিন্তু বাস্তবে তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

তথ্য অনুযায়ী, মোংলা উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে এমন অনেক কর্মী রয়েছেন, যারা জেল খেটে বা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে তাদের খোঁজখবর নেননি জেলা, উপজেলা কিংবা পৌরসভার প্রভাবশালী নেতারা। ফলে অনেক কর্মীকেই পরিবারের জন্য ন্যূনতম খাবারের ব্যবস্থা করতে না পেরে নিভৃতে কান্না করতে হয়েছে।

তৃণমূলের কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আর্থিক সংকটে তাদের পরিবারে ঈদ উপহার তো দূরের কথা, সাধারণ খাদ্যসামগ্রীও পৌঁছেনি। কোথাও কোথাও ১০ কেজি চাল বিতরণ করা হলেও তালিকায় অনেকের নাম স্থান পায়নি। এছাড়া দলীয়ভাবে বরাদ্দকৃত ৫০০ টাকা ঈদ সহায়তা কারা পেয়েছে, তারও কোনো স্বচ্ছ তালিকা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক কর্মী। তাদের অভিযোগ, ঈদের দিন বা তার আগে অন্তত ফোন করে খোঁজ নেওয়ার সৌজন্যটুকুও দেখাননি স্থানীয় নেতারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মী বলেন, “আমরা পদের জন্য রাজনীতি করি না। দলের ভালোবাসা থেকেই রাজপথে থাকি। কিন্তু ঈদের দিনে যখন দেখি আমাদের মতো কর্মীরা সন্তানদের মুখে ভালো খাবার তুলতে পারছে না, আর কিছু সুবিধাভোগী কর্মীরা সব সুবিধা পাচ্ছে—তখন মনে হয় আমাদের ত্যাগের কোনো মূল্য নেই।”

তারা আরও অভিযোগ করেন, নেতারা নিজেদের প্রচার-প্রচারণা ও সভা-সমাবেশে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও কর্মীদের দুর্দিনে পাশে দাঁড়াতে অনীহা দেখান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ দলীয় সংগঠনের জন্য অশনিসংকেত হতে পারে। মাঠপর্যায়ের কর্মীরা উপেক্ষিত হলে ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে, একই আসনে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে স্থানীয় সাংসদ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম অসহায় নারী-পুরুষদের মাঝে শাড়ি, কাপড় ও নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন।

ঈদের এই বিষাদময় অভিজ্ঞতা তৃণমূল কর্মীদের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, দলীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা তাদের খোঁজখবর নিয়ে পরিস্থিতি উত্তরণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেন কি না।

২৪৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন