ঈদের ছুটি শেষ, তবুও সিলেটে পর্যটকের ঢল থামেনি
সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬ ১০:৩০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঈদের সরকারি ছুটি শেষ হচ্ছে আজ সোমবার। তবে ছুটি শেষ হলেও কমেনি পর্যটকদের ঢল—বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখনও অব্যাহত রয়েছে সিলেটে ভ্রমণপিপাসু মানুষের আগমন।
ঈদের পরদিন থেকেই পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো সিলেট অঞ্চল। হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলো প্রায় পূর্ণ, আর পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়।
সিলেটের জাফলং, সাদাপাথর, লালাখাল ও চা-বাগানসহ প্রায় সব দর্শনীয় স্থানেই পর্যটকদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ঈদের ছুটি শেষ হলেও আরও কয়েকদিন এই ভিড় অব্যাহত থাকবে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠেছে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নেমে আসা শীতল জলধারা ও ধলাই নদীর বুকে ছড়িয়ে থাকা সাদা পাথরের অপার সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন হাজারো দর্শনার্থী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদের দিন থেকেই পর্যটকদের আগমন বাড়তে থাকে। নৌঘাট থেকে শুরু করে মূল স্পট পর্যন্ত সর্বত্র মানুষের ভিড়। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে আসা পর্যটকেরা জলকেলি, ছবি তোলা ও সাঁতারে মেতে উঠেছেন।
পর্যটকদের চাপ সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশ কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নৌকা ভাড়া নির্ধারণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা।
কুমিল্লা থেকে আসা পর্যটক নাবিল রহমান বলেন, “শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির মাঝে ঈদের ছুটি কাটাতে এখানে এসেছি। পাহাড় আর পাথরের এই মিতালি সত্যিই অসাধারণ।”
একজন হোটেল মালিক জানান, “ঈদের দিন থেকেই পর্যটকের আগমন শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে ব্যবসায় প্রাণ ফিরেছে।”
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ সেবা নিশ্চিতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
অন্যদিকে, গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও দেখা গেছে ব্যাপক পর্যটক সমাগম। ঈদের দিন থেকে দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত প্রায় লাখো পর্যটক ভ্রমণে এসেছেন বলে জানা গেছে।
প্রকৃতি কন্যা হিসেবে পরিচিত জাফলংয়ে সবচেয়ে বেশি পর্যটকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া বিছনাকান্দি ও রাতারগুল জলাবনেও ছিল উপচে পড়া ভিড়।
সকাল থেকেই দলবেঁধে পর্যটকেরা ঘুরতে বের হচ্ছেন। মেঘালয়ের পাহাড়, স্বচ্ছ জলধারা ও পাথরের মিতালি দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন তারা। কেউ নৌকায় করে ঝরনা, খাসিয়া পল্লি কিংবা চা-বাগানের দিকে যাচ্ছেন, আবার কেউ স্মৃতিবন্দী করছেন ছবি ও ভিডিওতে।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আব্দুল গফুর মিয়া বলেন, “পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে খুব ভালো লাগছে। পাহাড়, পানি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন ভরে দিয়েছে।”
পর্যটকদের আগমনে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নৌকা মাঝি, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী, ট্যুর গাইড, ফটোগ্রাফার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য।
জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ তপন তালুকদার জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন, প্রশাসন, পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নিরাপত্তার জন্য মাইকিং ও ইমারজেন্সি বুথও স্থাপন করা হয়েছে।
১৩৪ বার পড়া হয়েছে