কুমারখালীতে এসএসসি ব্যাচ ’৯৬-এর বর্ণাঢ্য ফ্যামিলি ডে, মিলন মেলায় উচ্ছ্বাস
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬ ৬:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে স্মৃতি, ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের এক অনন্য মিলনমেলায় রূপ নিল এসএসসি ব্যাচ ’৯৬ এর আয়োজিত বর্ণাঢ্য “ফ্যামিলি ডে”। রোববার সন্ধ্যা ৭টায় কুমারখালী পৌর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন যেন পরিণত হয় এক আবেগঘন উৎসবে।
উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের এসএসসি ব্যাচ ’৯৬ এর বন্ধুরা তাঁদের সহধর্মিনী ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হন এ মিলনমেলায়। দীর্ঘদিন পর একসাথে হওয়া—পুরনো স্মৃতি রোমন্থন, হাসি-আড্ডা আর গল্পে জমে ওঠে পুরো পরিবেশ। লোকজ খাবারের স্বাদ আর আন্তরিকতার উষ্ণতায় আয়োজনটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও হৃদয়ছোঁয়া।
শিশুদের হাসি-খুশিতে মুখর ছিল পুরো মিলনায়তন। অন্যদিকে, বন্ধুদের সহধর্মিনীরাও কাটান আনন্দঘন সময়। পারিবারিক বন্ধন আর বন্ধুত্বের মেলবন্ধনে অনুষ্ঠানটি পায় ভিন্নমাত্রা, যা উপস্থিত সবার মনে গেঁথে থাকবে দীর্ঘদিন।
এসএসসি ব্যাচ '৯৬ এর বন্ধু সাংবাদিক রনজক রিজভীর পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জহিরুল ইসলাম, শিমুল মালিথা, রিপন, বাবু মাস্টার, আলমগীর, শাহজালাল, সুজয় চাকী, সুমী, মালা, ডাঃ চঞ্চল এবং খাজা নাজিমউদ্দিন মিলু। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে বন্ধুত্বের বন্ধন অটুট রাখার প্রত্যয়, পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার আশা।
আয়োজনটির উদ্যোক্তা এসএসসি ব্যাচ ’৯৬ এর বন্ধু অ্যাডভোকেট জাকারিয়া আনসার মিলনের প্রতি ছিল সবার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা। আসন্ন কুমারখালী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়েও আলোচনা ছিল সরব। বন্ধুরা তাঁর সফলতা কামনা করে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সবশেষে বক্তব্যে অ্যাডভোকেট জাকারিয়া আনসার মিলন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, আজকের এই মিলনমেলা আমার কাছে শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের বন্ধুত্ব, ভালোবাসা আর পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতিচ্ছবি। আমরা যারা একসময় একই বেঞ্চে বসে স্বপ্ন দেখেছি, আজ তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে আবার একত্রিত হয়েছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
আমি বিশ্বাস করি, জীবনে যত বড় অবস্থানেই যাই না কেন, শেকড়কে ভুলে গেলে চলবে না। এই ব্যাচ ’৯৬ আমার সেই শেকড়, আমার শক্তি। তোমাদের ভালোবাসা ও সমর্থনই আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগায়।
রাজনীতি হোক বা সামাজিক নেতৃত্ব—কোনো কিছুই একার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি সবসময় সম্মিলিত নেতৃত্বে বিশ্বাস করি। তাই আমি চাই, আমাদের এই বন্ধুত্বের বন্ধন শুধু আড্ডা বা স্মৃতিচারণেই সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজের কল্যাণে কাজ করুক।
আগামী দিনে আমি কুমারখালী পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচনে তোমাদের সকলকে পাশে চাই—পরামর্শে, সহযোগিতায় এবং দোয়ায়। আমি এমন একটি কুমারখালী গড়তে চাই, যেখানে উন্নয়ন হবে সবার জন্য, এবং নেতৃত্ব হবে সবার অংশগ্রহণে।
তোমরাই আমার শক্তি, আমার প্রেরণা। তোমাদের নিয়ে, তোমাদের ভালোবাসা নিয়েই আমি সামনে এগিয়ে যেতে চাই।
আবেগঘন এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনব্যাপী আনন্দঘন এ আয়োজন। তবে শেষ হলেও, অংশগ্রহণকারীদের মনে রয়ে যায় ভালোবাসা, স্মৃতি আর বন্ধুত্বের এক অমলিন অধ্যায়।
১৭৯ বার পড়া হয়েছে