সর্বশেষ

সারাদেশ

মোংলায় চিংড়ি ঘের দখল নিয়ে সংঘর্ষে আহত ২১, এখনও এলাকায় উত্তেজনা

মাসুদ রানা, মোংলা
মাসুদ রানা, মোংলা

বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬ ৩:১৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
মোংলার চাঁদপাই ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি এলাকায় ৩০ বিঘার একটি চিংড়ি ঘেরের দখলকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে কানাইনগর এলাকায় সংঘটিত এ রক্তক্ষয়ী ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুই জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিকাবাড়ি এলাকার ৩০ বিঘা আয়তনের একটি চিংড়ি ঘেরের দখল নিয়ে সেলিম ও জাকির গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। ভুক্তভোগীদের দাবি, জমিটির মূল মালিক সেলিম রেজা বাচ্চু ও মৃনাল নামের দুই ব্যক্তি। তবে পুরো জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সেলিম রেজা বাচ্চুর নানা টালবাহানার কারণেই তার ‘কারসাজিতে’ এই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

২০২৫ সালে ওই চিংড়ি ঘেরটি বাচ্চুর কাছ থেকে লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেন মো. সেলিম হাওলাদার। এ সময় বাচ্চু ও সেলিমের মধ্যে আর্থিক হিসাব নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সেলিম হাওলাদারের পাওনা পরিশোধ না করেই ২০২৬ সালে একই ঘেরটি জাকির গ্রুপকে লিজ দেন সেলিম রেজা বাচ্চু। এর পর থেকেই পূর্বের চাষি ও বর্তমান লিজগ্রহীতার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বর্তমানে ঘেরটিতে উভয় পক্ষের লোকজন অবস্থান নিয়ে দখল নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

বুধবার দুপুরে ঘেরটির দখলকে কেন্দ্র করে সেলিম হাওলাদারের পক্ষে আ. রশিদ গ্রুপ এবং জাকির গ্রুপের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে কানাইনগর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সংঘর্ষে রশিদ গ্রুপের কাশেম, জাফর, ওহিদ, লাখী বেগম, জাহিদ, ফরিদ ও ওহিদুলসহ ১১ জন রক্তাক্ত আহত হন। অন্যদিকে জাকির গ্রুপের মালেক, আলাম, আ. সোরাপ ব্যাপারী, কালাম, ওসমান, আলামিন ও রোকেয়া বেগমসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

আহতদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে রশিদ গ্রুপের জাফর ও কাশেমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জাকির স্থানীয় আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি এবং দীর্ঘদিন ধরে বন্দরের বাণিজ্যিক জাহাজসংক্রান্ত চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত। তার নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, চিংড়ি ঘেরটি নিয়ে কয়েক বছর ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এই সংঘর্ষের নেপথ্যে সেলিম রেজা বাচ্চুর ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. বুলেট সেন জানান, দুপুরের পর দুই পক্ষের প্রায় ১৮ থেকে ২০ জন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে ১২ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং দুই জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি আহতদের মধ্যেও কারও অবস্থা গুরুতর হলে তাকেও খুলনায় পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জমির মালিক বাচ্চুর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, কানাইনগর এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি, তবে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মোংলা উপজেলায় প্রায় ৭৫টি মাছের ঘের দখলের ঘটনা ঘটেছে।

১৪৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন