ঈদে নিরাপদ যাত্রার প্রস্তুতি, তবে পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে ঝুঁকি রয়েই গেছে
সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬ ৬:৪৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঈদুল ফিতরের আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঘরমুখো মানুষকে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তবে পাটুরিয়া ফেরি ঘাটের পন্টুনের র্যাম ও অ্যাপ্রোচ সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় যাত্রী ও যানবাহনের ভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করেছে। ফেরি ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের নির্বিঘ্ন পারাপারের জন্য ছোট-বড় মিলিয়ে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ১৭টি ফেরি এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ৫টি ফেরি যুক্ত করা হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের এক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে যানবাহনের চাপ কমলেও পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট দায়সারা ভাবে চলছে। গত বছরের বর্ষায় ধ্বংস হওয়া পুরনো লঞ্চ ঘাটের পুনঃস্থাপন না হওয়ায় এবং ৪ নম্বর পন্টুনের নিচের অংশ নদীতে বিলীন হওয়ায় পারাপারে সমস্যা হচ্ছে। ঘাটের তিনটি সচল পন্টুনের র্যাম থেকে অ্যাপ্রোচ সড়ক অনেক উপরে থাকায় যানবাহন লোড-আনলোডে সময় বেশি লাগছে। এছাড়া কিছু পন্টুনের র্যাম্পের পকেট জরাজীর্ণ ও অ্যাপ্রোচ সড়ক খাড়া থাকায় বড় যানবাহন উঠতে গিয়ে চাকা আটকে যাচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, সর্বোচ্চ সংখ্যক ফেরি দিয়ে ঈদে ঘরমুখো মানুষকে পারাপার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পন্টুনের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও কারিগরি টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
একজন ট্রাভেল চালক পারভেজ মজুমদার বলেন, মহাসড়কের বেশিরভাগ জায়গা ফাঁকা থাকলেও ঘাটে যাত্রী ও যানবাহন অনেক ভোগান্তির মুখোমুখি হবে। গোল্ডেন লাইনের সুপারভাইজার আমির হোসেন বলেন, পাটুরিয়া ফেরি ঘাটের সমস্যা নতুন নয়, এটি প্রায় বছরের উপরে হয়ে থাকে। ঈদে দ্রুত চালানোর কারণে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়; যদি কোনো যাত্রীবাহী গাড়ি স্লিপ করে তবে পদ্মা নদীতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লঞ্চ মালিক সমিতির ম্যানেজার পান্না লাল নন্দী বলেন, ঈদে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে মোট ৩৪টি লঞ্চ চলাচল করবে। আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম আব্দুস সালাম জানান, পানির স্তর কমে যাওয়ায় পন্টুন নিচে মানামো হয়েছে এবং সংযোগ সড়ক খাড়া হয়ে গেছে। এই ঢালু রাস্তা ঠিক করার জন্য ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের যাত্রী ও যানবাহনের পারাপারের জন্য ১৭টি ছোট-বড় ফেরি প্রস্তুত রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল আলম বলেন, পাটুরিয়া পয়েন্টের তিনটি পন্টুনে যানবাহন নির্বিঘ্নে পারাপারের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। অ্যাপ্রোচ সংকের খাড়া অংশ দ্রুত ঠিক করা হচ্ছে।
মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, ঈদে মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রার জন্য কয়েক স্তরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। ফেরি ঘাটে যাত্রী ও যানবাহন নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা মাঠে থাকবে।
১২৩ বার পড়া হয়েছে