তামাবিলে প্রতিদিন ৩৩ লাখ টাকার রাজস্ব লুট, সিন্ডিকেটের পকেটে যাওয়ার অভিযোগ
সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬ ৬:২৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দরে পাথর ও কয়লা আমদানিতে প্রতিদিন প্রায় ৩৩ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, অতিরিক্ত পণ্য এনে শুল্ক কম দেখানোর মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ সরকারি কোষাগারে না গিয়ে একটি সিন্ডিকেটের পকেটে যাচ্ছে।
জানা গেছে, তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০০টি পাথরবাহী ট্রাক ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। প্রতিটি ট্রাকে গড়ে প্রায় ২৬ মেট্রিক টন পাথর আনা হলেও শুল্ক পরিশোধ করা হয় মাত্র ২১ টনের হিসেবে। কারণ, বন্দরে প্রবেশ করা ৬ চাকার একটি ট্রাকের নিজস্ব ওজন ধরা হয় ৯ টন এবং আমদানিকৃত পাথরের জন্য কর দেওয়া হয় ১২ টনের। ফলে প্রতি ট্রাকে অতিরিক্ত প্রায় ৫ টন পাথরের শুল্ক সরকারের রাজস্ব খাতে জমা পড়ছে না।
বর্তমান শুল্কহার অনুযায়ী পাথরের প্রতি মেট্রিক টনে ৭৭০ টাকা কর দিতে হয়। সে হিসেবে প্রতিদিন ৭০০ ট্রাকে অতিরিক্ত ৫ টন করে মোট ৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পাথরের শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। এতে দৈনিক প্রায় ২৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
এদিকে পাথরের পাশাপাশি কয়লা আমদানিতেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০টি কয়লাবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে। প্রতি ট্রাকে অতিরিক্ত প্রায় ৫ মেট্রিক টন কয়লার শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়লার শুল্কহার প্রতি মেট্রিক টনে ৪ হাজার ৫০ টাকা হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
সব মিলিয়ে পাথর ও কয়লা আমদানিতে প্রতিদিন প্রায় ৩৩ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, এসব অতিরিক্ত পণ্যের কর সরকারি কোষাগারে জমা না পড়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বণ্টন হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক পরিচয়ধারীরা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
১৩৬ বার পড়া হয়েছে