নওগাঁর মার্কেটগুলোতে ঈদের কেনাকাটার ধুম, দামে ক্রেতাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬ ৯:১৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঈদের আগমনী মরসুমে নওগাঁর মার্কেট ও বিপণি বিতানগুলোতে ভিড় লক্ষ্যণীয়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে ক্রেতাদের আনাগোনা। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে নানা বয়সী ক্রেতারা নিজেদের পছন্দের পোশাক কিনতে মার্কেটগুলো ঘুরছেন।
পাশাপাশি ফুটপাতের দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। তবে পোশাকের দামের বিষয়ে ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের বিক্রি আগেভাগেই শুরু হয়েছে। রোজার ১০ দিন পার হওয়ার পর থেকেই বিপণি বিতানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বেচাকেনা বাড়বে বলে ধারণা করেছেন তারা।
সরেজমিনে নওগাঁর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, আনন্দবাজার শপিং কমপ্লেক্স, জহির প্লাজা, দেওয়ান বাজার, মক্কা মার্কেট, শুভ প্লাজা, ইসলাম মার্কেট, বিসমিল্লাহ টাওয়ার, মদিনা মার্কেট, কুমারখালি বস্ত্রালয় ও বিশাল ক্লথ স্টোরে ক্রেতাদের ব্যাপক সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। মার্কেটগুলোতে বিক্রেতারা ব্যস্ত হয়ে ক্রেতাদের পছন্দের পোশাক দেখাচ্ছেন। দামাদামি চলছে মার্কেটের ভেতর। পোশাকের পাশাপাশি কসমেটিক ও জুয়েলারি কেনাকাটার জন্যও ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের পোশাকের পাশাপাশি এবারের ক্রেতাদের তালিকায় সেরা অবস্থানে রয়েছে মেয়েদের পছন্দের পাকিস্তানি-ইরানি ডিজাইনের ‘ফারসি গারারা’ থ্রি পিস। সারারা ও গারারা, সায়রাকাট, নায়রাকাট থ্রি পিসের চাহিদাও বেশ ভালো। তরুণীদের মধ্যে গাউন, টপস, জিপসি, ফ্লোর টাচ ও লেহেঙ্গার চাহিদাও প্রচুর। নারীদের পছন্দের তালিকায় শাড়ি, থ্রি পিস এবং আরামদায়ক সুতি পোশাক রয়েছে। ছেলেদের পছন্দের তালিকায় শার্ট, টি-শার্ট, জিন্স, পায়জামা-পাঞ্জাবি ও বাহারি পোশাক শীর্ষে।
পরিবার নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা রফিক ইসলাম বলেন, “এ বছর বাজারে পর্যাপ্ত পোশাক থাকলেও দাম গতবারের তুলনায় অনেক বেশি। বাচ্চাদের পোশাকের দামও তুলনামূলক বেশি। আমার পাঁচ বছরের মেয়ের জন্য পছন্দ হওয়া একটি ড্রেসের দামই ৪ হাজার টাকা।”
শিক্ষার্থী তানিয়া রহমান বলেন, “মায়ের সঙ্গে বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরে পাকিস্তানি-ইরানি ডিজাইনের ফারসি গারারা থ্রি পিস কিনেছি। অনলাইনে দেখে পছন্দ হওয়ায় কিনেছি।”
ক্রেতা আল-আমিন বলেন, “দাম নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও সব জিনিসের দাম বেড়েছে, তাই বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে।”
আসমান বিগবাজারের কর্মচারী নাজমুল হোসেন বলেন, “আমাদের দোকানে ৮ থেকে ২১ বছর বয়সী শিশু ও তরুণীদের জন্য বিভিন্ন ধরণের থ্রি পিস, টপস, জিপসি, গাউন, লেহেঙ্গা ও ফ্লোর টাচ পাওয়া যাচ্ছে। পাকিস্তানি-ইরানি ডিজাইনের ফারসি গারারা থ্রি পিস ২ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শাড়ির মধ্যে নারীদের পছন্দের তালিকায় জয়পুরি, কাঞ্জিবরণ ও বেনারসি শাড়ি শীর্ষে। এছাড়া হাফসিল্ক, জামদানি, খাদি ও মাসরাইজ শাড়ির চাহিদাও রয়েছে।”
দোকানের মালিক ওহিদুর রহমান বলেন, “রোজার ১০ দিন পর থেকে ক্রেতাদের ভিড় বেড়ে গেছে। আমরা বিভিন্ন ধরণের কালেকশন রেখেছি। তরুণীরা পাকিস্তানি-ইরানি ডিজাইনের ফারসি গারারা থ্রি পিস বেশি কিনছেন। এছাড়া পাকিস্তানি সারারা, নায়কাট থ্রি পিস, লোন থ্রি পিস ও ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের গাউন থ্রি পিসের চাহিদা ভালো।”
গিতাঞ্জলি মার্কেটের শিলামনি দোকানের মালিক নেপাল চন্দ্র ঘোষ বলেন, “আমাদের দোকানে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের নারী-পুরুষের জন্য পোশাক আছে। শুরুতে কেনাকাটা কম হলেও ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, বেচাকেনা বেড়েছে। আশা করি সামনের কয়েকদিন আরও ভালো বেচাকেনা হবে।”
১২৪ বার পড়া হয়েছে