শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল ইনজেকশনে ২ নারীর মৃত্যু
রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬ ৮:৪২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল ইনজেকশন প্রয়োগে দুই নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
একই সঙ্গে অভিযুক্ত নার্সদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রোববার সকালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ তলার নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই নারী হলেন—হাসপাতালের ৭ নম্বর বেডে ভর্তি থাকা সেফালী (৬০) এবং ১০ নম্বর বেডের রোগী হেলেনা (৪৫)। সেফালী পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডারুগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা এবং মান্নানের স্ত্রী। অপরদিকে হেলেনা বরিশালের কাশিপুর বিমানবন্দর থানা এলাকার মৃত বাবু হাওলাদারের স্ত্রী।
নিহতদের স্বজন ও হাসপাতালে ভর্তি থাকা অন্য রোগীদের অভিযোগ, সেফালীর গালে টিউমারজাতীয় সিস্ট এবং হেলেনার থাইরয়েডের সমস্যার কারণে তারা শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। রোববার তাদের দুজনেরই অপারেশন হওয়ার কথা ছিল।
স্বজনদের দাবি, সকালে ওই ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স মলিনা রানী হাওলাদার ভুলক্রমে তাদের শরীরে ‘নরকিউ (১০ এমজি)’ নামের একটি এনেস্থেসিয়া ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার মাত্র দুই থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই দুই রোগীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্বজন ও ওয়ার্ডে থাকা অন্যান্য রোগীরা জানান, সেফালী ও হেলেনা দুজনই তখন স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন। ইনজেকশন হাতে পুশ করার পরপরই তাদের অবস্থার অবনতি ঘটে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা মারা যান। এ ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজনসহ ওই ওয়ার্ডে থাকা অন্যান্য রোগী ও তাদের পরিবার।
এদিকে অভিযুক্ত নাক, কান ও গলা বিভাগের সিনিয়র নার্স মলিনা রানী হাওলাদার নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, “কিভাবে কী হলো আমি বলতে পারছি না। আমার ভুল হয়েছে।” একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন আরেক সিনিয়র নার্স হেলেনাও।
হাসপাতালের পরিচালক জানান, নিহত দুই রোগীর ওইদিন অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। সাধারণত অপারেশনের আগে এবং অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার সময় কিছু ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট নার্সরা নির্ধারিত সময়ের আগে এনেস্থেসিয়া ইনজেকশন পুশ করেছেন, যা দায়িত্বে গাফিলতির শামিল।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিহতদের স্বজনরা যদি আইনগত ব্যবস্থা নিতে চান, সেক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সহযোগিতা করবে।
ঘটনার পরপরই তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নাক, কান ও গলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আমিনুল হককে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
১২৫ বার পড়া হয়েছে