সুনামগঞ্জে দিনভর থেমে থেমে শিলাবৃষ্টি, শেষ হয়নি ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ: শঙ্কায় কৃষক
শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬ ১১:২৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সুনামগঞ্জের চার উপজেলায় শনিবার বিকাল থেকে থেমে থেমে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে করে কৃষকের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
শনিবার বিকেলে জেলার তাহিরপুর, শান্তিগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলার এলাকায় ঘন্টাব্যাপী শিলাবৃষ্টি দেখা গেছে। রাতের সময় সুনামগঞ্জ সদরেও শিলাবৃষ্টি হয়েছে।
এতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং কৃষকদের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিলাবৃষ্টির সময়ে হাওরে থাকা গৃহপালিত পশু নিয়ে রাখালরা আতঙ্কের মধ্যে সময় কাটিয়েছেন। এছাড়া, নির্মাণ শ্রমিকরাও তাদের ইমারত কাজ ফেলে রেখে ঘরে বসে থাকতে দেখা গেছে।
তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওর পাড়ের কৃষক মফিক মিয়া বলেন, শিলাবৃষ্টির সময় তিনি মাথায় গামছা বেঁধে শিলার আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করেছেন। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ফসল তুলা নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে।
ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন জানান, শিলাবৃষ্টি মাঠের উপর যেভাবে পড়েছে, যদি ফসলি জমিতেও সেইভাবে পড়ে থাকে তাহলে ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, শিলাবৃষ্টির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য তিনি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে কাজ করাচ্ছেন।
অন্যদিকে, গত দু’দিন ধরে একটানা বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা আরও বাড়ছে। অতিবৃষ্টি হলে ফসলহানির শঙ্কাও তাদের মনে তৈরি হয়।
চলতি অর্থ বছরে কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলায় ৭১৮টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হয় গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর। ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বাঁধের শেষ সময়সীমা ছিল ২৮ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত।
নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড আরও ১৫ দিন সময় বাড়িয়ে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করেছে। তবে বর্ধিত সময়ে বাঁধের কাজ শেষ করতে পারেনি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসির) সদস্যরা। এতে কৃষকের মধ্যে শঙ্কা আরও বেড়েছে।
ভক্সপপে হাওর পাড়ের কৃষকরা জানিয়েছেন, মেয়াদ বাড়ানো হলেও অনেক বাঁধের কাজ সম্পন্ন হয়নি। বেশির ভাগ বাঁধে কম্পেকশন, দুরমুজ ও ঘাস লাগানো বাকি রয়েছে। কিছু বাঁধে এখনও মাটির কাজ চলমান। বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় কাজ সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ফলে ফসলের সুরক্ষা নিয়ে হাওর পাড়ের কৃষকরা উদ্বিগ্ন।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের গাফিলতির কারণে এবার বাঁধের কাজ দ্রুত শেষ হয়নি। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাঁধের কাজের কারণে ফসলের ক্ষতি হলে সংগঠন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, হাওরে বাঁধের কাজ এখন পর্যন্ত ৯২ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, দু-তিন দিনের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে এবং শঙ্কার কোনো কারণ নেই।
১২৩ বার পড়া হয়েছে