সিসিক নির্বাচনে বিএনপিতে মনোনয়ন দৌড়, আলোচনায় সামসুজ্জামান জামান
বৃহস্পতিবার , ১২ মার্চ, ২০২৬ ৬:৪৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তোড়জোড়।
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সিলেটে ইতোমধ্যে বইতে শুরু করেছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। নগরজুড়ে বিভিন্ন শুভেচ্ছা বার্তার আড়ালে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা।
মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দীর্ঘ তালিকার মধ্যে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন রাজপথের লড়াকু নেতা, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এবং সিলেট বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান।
সিলেটের রাজনীতিতে অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামানকে আপোষহীন নেতা হিসেবে পরিচিত বলে মনে করা হয়। প্রায় চার দশক ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এই নেতা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। বিগত সরকারের সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ৭৯টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজপথে সম্মুখ লড়াই করতে গিয়ে তিনি স্বৈরাচারী সরকারের বাহিনীর গুলিতে গুরুতর আহত হন।
দলের প্রতি তাঁর আনুগত্যের কথাও নেতাকর্মীরা তুলে ধরছেন। ২০১৩ সালের সিসিক নির্বাচনে শক্তিশালী প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে কাজ করেন। একইভাবে ২০১৮ ও ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনেও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একাধিকবার নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর মতে, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য আত্মত্যাগ করা এই নেতা এবার নগরপিতা হিসেবে দলের মূল্যায়ন পাওয়ার দাবিদার।
এদিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী মেয়র পদে নিজের প্রার্থিতার কথা ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছেন। তিনি প্রশাসকের দায়িত্ব পালনকে আগামী নির্বাচনের ‘ড্রেস রিহার্সেল’ হিসেবে দেখছেন। তবে সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি নগরীর সৌন্দর্য রক্ষায় যত্রতত্র পোস্টার ও ব্যানার না লাগানোর জন্য নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানিয়েছেন।
মেয়র পদের দৌড়ে আরও রয়েছেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। দীর্ঘদিন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে তিনি সম্ভাব্য নির্বাচনী শক্তি হিসেবে দেখছেন।
এছাড়া মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাছিম হোসাইন এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় থেকে নিজেদের আগ্রহের কথা প্রকাশ করছেন। সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকী, সাবেক আহ্বায়ক মিফতাহ সিদ্দিকী এবং সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনারও দলের মনোনয়নের প্রত্যাশায় প্রচারণা চালাচ্ছেন।
অন্যদিকে সিলেট বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমও দীর্ঘদিন ধরে মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী। ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি এই পদে মনোনয়ন চেয়ে আসছেন। ২০১৮ সালে দলের স্বার্থে সরে দাঁড়ানো এই নেতা সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনেও নিজে প্রার্থী না হয়ে আরিফুল হক চৌধুরীকে সমর্থন দিয়েছেন। ফলে এবারের সিসিক নির্বাচনে তিনিও মনোনয়নের জোরালো দাবিদার হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিএনপি জয়ী হলেও জামায়াতে ইসলামীর ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৮ সালের সিসিক নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী যেখানে মাত্র ১১ হাজার ভোট পেয়েছিলেন, সেখানে এবারের সংসদ নির্বাচনে তাদের প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি ভোট। এই পরিসংখ্যান বিএনপির নেতাদের নতুন করে ভাবাচ্ছে।
দলীয় বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের এই উত্থান মোকাবিলা করতে হলে এমন একজন প্রার্থী প্রয়োজন যিনি রাজপথে পরীক্ষিত, ত্যাগী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে গ্রহণযোগ্য।
যদিও এখনো সিসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি, তবু নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির ভেতরে তুমুল প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। একদিকে বর্তমান প্রশাসকের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে সামসুজ্জামান জামানের মতো ত্যাগী নেতাদের দাবি—সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত দল কাকে মনোনয়ন দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
১২১ বার পড়া হয়েছে