ঈদে সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পে চমক: তৈরি হচ্ছে কোটি টাকার শাড়ী-লুঙ্গি, ভারতেই রপ্তানি ৬০ ভাগ
বৃহস্পতিবার , ১২ মার্চ, ২০২৬ ৬:৩৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঈদ উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পে এখন চরম ব্যস্ততা বিরাজ করছে। বেলকুচি, শাহজাদপুর, এনায়েতপুর, উল্লাপাড়া, সদর ও কামারখন্দ উপজেলার প্রায় ১৪ হাজার ৮৪৯টি কারখানায় হস্ত ও ইঞ্জিনচালিত ৪ লাখ ৫ হাজার ৬৭৯টি তাঁতে ২০ লাখ ৮ হাজার মানুষ শাড়ী, লুঙ্গী, ধুতি, গামছাসহ অন্যান্য পোশাক তৈরি করছে।
দুটি ঈদ ও পুঁজাকে সামনে রেখে গত দুই মাস ধরে তাঁতীরা দিনরাত খাটছেন নতুন নকশার শাড়ী-লুঙ্গি তৈরিতে। তাঁতশ্রমিকরা জানিয়েছেন, চাহিদা বেশি হওয়ায় কাজের চাপও বেড়েছে। তবে কাজ বেশি করলে ঈদে বোনাস ও অতিরিক্ত মজুরী পাওয়ায় পরিবারে উৎসব উদযাপনও সুষ্ঠুভাবে সম্ভব হচ্ছে।
দেশের পাইকারী হাটগুলোতেও শাড়ী-লুঙ্গির বেচাকেনা তুঙ্গে। ৫০০ থেকে আড়াই হাজার টাকার সুতি জামদানী, সিল্ক, গাদোয়াল, ইকট, বুটিক শাড়ী এবং ২০০ থেকে দেড় হাজার টাকার সুতি লুঙ্গি বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীরা জানান, লাভের হার আনুপাতিকভাবে বেশি না হলেও গত দুই মাস ধরে বাজারের চাঙ্গাভাব সন্তোষজনক।
সিরাজগঞ্জের উৎপাদিত শাড়ী-লুঙ্গির চাহিদা বিশেষ করে ভারতের কলকাতা, আসামসহ বিভিন্ন প্রদেশে বেশি। কলকাতার শীর্ষ ব্যবসায়ীরা এখান থেকে সরবরাহ করছেন সমগ্র ভারতবর্ষে। তারা জানিয়েছেন, সিরাজগঞ্জের সুতি শাড়ীর মান ভারতীয় শাড়ীর চেয়ে ভালো এবং দামও কম।
লাভলু বাবলু কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস্ এর চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন লাভলু বলেন, চলতি ঈদ মৌসুমে জেলার উৎপাদিত ৯ হাজার কোটি টাকার শাড়ী-লুঙ্গির ৬০ শতাংশ বা ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকার পরিমাণ রপ্তানি হচ্ছে ভারতের বাজারে। সড়কপথ পুনরায় চালু হলে রপ্তানি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত কোঠা তৈরি হলে দেশের তাঁতবস্ত্র খাত আরও সমৃদ্ধ হতে পারবে।
১৪১ বার পড়া হয়েছে