ইউএনও'র নাম করে গ্রাম পুলিশ নিয়োগে চেয়ারম্যানের ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল
বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬ ৩:১৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গ্রাম পুলিশ নিয়োগ সংক্রান্ত ইউএনওকে ঘুষ দেয়ার অভিযোগে ধূলাসার ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিমকে শোকজ করা হয়েছে।
প্রার্থীদের কাছ থেকে ইউপি চেয়ারম্যানের ৪-৫ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলা প্রশাসন তাকে আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। এই তথ্য উপজেলা প্রশাসন সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নিজ বাসভবনে খালি গায়ে লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় বসে আছেন চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিম। ভিডিওতে তার হাতে কয়েক বান্ডিল টাকা দেওয়া হচ্ছে নিয়োগ প্রত্যাশীদের পক্ষ থেকে। একই সময় তিনি বলেন, “টাকা ছাড়া কিছুই হয় না। ইউএনও'র টাকা দিতে হবে তার ক্লার্ক আবুল বাশার অথবা পিয়ন মামুনের কাছে।”
ঘুষকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসার পর ধূলাসার ইউপি চেয়ারম্যানকে শোকজ করে জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ধূলাসার ইউনিয়নে ৪ জন গ্রাম পুলিশ নিয়োগের বিপরীতে প্রতিজন প্রার্থীর কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভিডিওতে সুনির্দিষ্টভাবে ৬নং ওয়ার্ডের প্রার্থী তামিমের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে, উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ১৬ জন গ্রাম পুলিশের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ১৮ নভেম্বর ২০২৫ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিলেন কলাপাড়া ইউএনও কাউছার হামিদ। ১৬টি শূন্য পদের বিপরীতে ৮২ জন আবেদন করেন।
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ১০টায় মঙ্গলসুখ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতার পরীক্ষা নেওয়া হয়। একই দিন বিকেল ৩টায় লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি, সদস্য সচিবসহ অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
নিয়োগ বোর্ডের সদস্য, মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান দাবি করেন, পরীক্ষার দিন তিনি পটুয়াখালীতে মিটিংয়ে ছিলেন।
নিয়োগ বোর্ডের অপর সদস্য, স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গ্রাম পুলিশ নিয়োগে ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে তাঁর জানা নেই। তিনি দাবি করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অভিযুক্ত ধূলাসার ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিম জানান, প্রার্থীদের কাছ থেকে নেয়া টাকা ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের শোকজ নোটিশের জবাব নির্দেশিত সময়ের মধ্যে দেবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়েছে। ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে তার জানা নেই। তবে ভিডিওর বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। চেয়ারম্যানকে ইতিমধ্যে শোকজ করা হয়েছে এবং তিনি জবাব দিলে সেটি জেলা প্রশাসন বরাবর প্রেরণ করা হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, পটুয়াখালী, জুয়েল রানা বলেন, বিষয়টি অবগত হয়েছি। ঘুষ লেনদেনে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে শোকজ করা হয়েছে। তার জবাব উপজেলা থেকে জেলায় পাঠালে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। পরে হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষুদেবার্তায় বার্তা পাঠিয়ে ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করার নির্দেশ দেন তিনি।
১২৯ বার পড়া হয়েছে