মাদারীপুরে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে হত্যা, প্রতিপক্ষের ৪০ ঘর ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ
বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬ ২:২৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আলমগীর হাওলাদার হত্যার ঘটনায় প্রতিপক্ষের অন্তত ৪০টি বসতঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এই দুই ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় এলাকা প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শাকিল মুন্সি হত্যাকে কেন্দ্র করে মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় সাবেক কমিশনার আক্তার হাওলাদার ও একই এলাকার হাসান মুন্সির মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে মঙ্গলবার সকালে আক্তার হাওলাদারের চাচাতো ভাই আলমগীর হাওলাদারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের জেরে সন্ধ্যার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন হাসান মুন্সির অনুসারীদের অন্তত ৪০টি বসতঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়। পাল্টাপাল্টি এই সহিংস ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহত আলমগীর হাওলাদারের বোন লাইজু আক্তার বলেন, “আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই। আমাদের কেউ হাসান মুন্সির লোকজনের ঘরে আগুন দেয়নি। তারা নিজেরাই আগুন লাগিয়ে আমাদের নামে অপবাদ দিচ্ছে।”
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হামুমন নেছা অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলে বিদেশে থাকে, কোনো রাজনীতি বা দলাদলির সঙ্গে জড়িত না। তারপরও রাতের বেলা এসে আমাদের ঘর ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।”
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত ডালিয়া আক্তার বলেন, “ঘরের সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। এখন পড়নের কাপড় ছাড়া আর কিছু নেই। বারবার মারামারি ও খুনোখুনির কারণে আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চাই।”
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, “হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে আলমগীর হাওলাদার হত্যার ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সদর মডেল থানায় ৮৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মাদারীপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আক্তার হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
১২৮ বার পড়া হয়েছে