মায়ের কবরেই শায়িত বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শিক্ষার পথিকৃৎ সাখাওয়াত আলী খান
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬ ১:২৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং দেশের সাংবাদিকতা শিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ সাখাওয়াত আলী খান (৮৫) নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ধানুয়া এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে তার মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।
সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান রবিবার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। কিছুদিন আগে তিনি স্ট্রোক করলে কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। বাসায় ফেরার পর আবার অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জানাজার মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহী, জেলা বিএনপির সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান খান, শিবপুর উপজেলা বিএনপির নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। এছাড়া মরহুমের আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা জানাজায় অংশ নেন।
দাফন শেষে মরহুমের স্ত্রী সমাজকর্মী মালেকা খান, মেয়ে সুমনা শারমীন এবং ছেলে নওশাদ আলী খানকে সমবেদনা জানানো হয়।
জানাজার অংশগ্রহণকারীরা অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের ভদ্র, বিনয়ী ও গুণী চরিত্রের প্রশংসা করেন। তার মেধা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতায় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তাঁকে হারানোতে নরসিংদীবাসি একটি অভিভাবককে হারাল বলে উল্লেখ করেছেন অনেকে।
অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান ১৯৪১ সালে নরসিংদীর শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষকতার আগে তিনি প্রায় এক দশক জাতীয় দৈনিকে সাংবাদিকতা করেছেন। ২০০৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণের পরও তিনি পাঁচ বছর সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি একই বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ছিলেন। এছাড়া তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ইউল্যাব-এ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। ৩০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ দেশের এবং বিদেশের বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
মরহুমের ছেলে নওশাদ আলী খান জানান, চলা-ফেরা ও লেখনির পাশাপাশি যদি বাবার কারণে কারও মনে কষ্ট হয়ে থাকে, তিনি তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
নরসিংদী জেলায় এবং দেশের সাংবাদিক সমাজে অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
১১৮ বার পড়া হয়েছে