মাদারীপুরে দাদা-নাতির বিরুদ্ধে কিশোরী অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণ করে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দাদা ও নাতির বিরুদ্ধে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে তাকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানালেও এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি ভুক্তভোগীর পরিবার।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বর্ণনা অনুযায়ী, তার মা মাদারীপুর শহরে গৃহকর্মীর কাজ করেন এবং বাবা ঢাকায় দিনমজুর হিসেবে কর্মরত। গত বুধবার (৪ মার্চ) ঝাউদী ইউনিয়নের ব্রাহ্মন্দী গ্রামে তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন কিশোরীর চাচার আত্মীয় নওয়াব আলী সরদার। বাড়িতে কিশোরীকে একা পেয়ে কৌশলে তাকে অজ্ঞান করে অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে নওয়াব আলী তাকে আলীনগর গ্রামে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে বলে জানায় কিশোরী। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে গেলে সেখানে নওয়াব আলীর নাতি মিলন সরদারও তার সঙ্গে যোগ দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দাদা ও নাতি দু’জনই পর্যায়ক্রমে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবার অভিযুক্ত দাদা-নাতির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।
কিশোরীর মা বলেন, দীর্ঘ নির্যাতনের পর আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নওয়াব আলী আমাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও দাদা-নাতি মিলে আমার নাবালক মেয়ের সর্বনাশ করেছে। আমি তাদের কঠোর বিচার চাই।
মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মীর রায়হান জানান, ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে এক কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। গাইনোকোলজিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাসপাতাল সূত্রে আমরা এক কিশোরীর ভর্তির খবর পেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত ভূক্তভোগী বা তার পরিবার লিখিত কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি।
অভিযুক্ত নওয়াব আলী সরদার, মিলন সরদারসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে।
এই পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী।
১৩১ বার পড়া হয়েছে