দৌলতপুর উপজেলায় রসুনের বাম্পার ফলন, দাম নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬ ৪:৩১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলাতে চলতি মৌসুমে রসুনের ফলন ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রত্যাশিত বাজারদর না পাওয়ার আশঙ্কায় লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে প্রায় ৮৯৫ হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদ হয়েছে। এছাড়া বাকি নয়টি ইউনিয়নেও কমবেশি চাষ হয়েছে। বিশেষ করে ফিলিপনগর ইউনিয়ন, মরিচা ইউনিয়ন, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন ও চিলমারী ইউনিয়ন এলাকার পদ্মার চরে রসুনের আবাদ বেশি হয়েছে। পাশাপাশি প্রাগপুর ইউনিয়নয়ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে চাষ হয়েছে।
বর্তমানে কৃষকেরা মাঠ থেকে রসুন সংগ্রহ, শুকানো ও বাজারজাতকরণ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকেই সংরক্ষণের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে ভালো দাম পাওয়া যায়।
চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বিঘা জমিতে বীজ, সার, সেচ, হালচাষ ও পরিচর্যা মিলিয়ে খরচ পড়ছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় গড়ে ৪৫ থেকে ৬০ মণ পর্যন্ত ফলন হচ্ছে। তবে বাজারে প্রতি মণ রসুন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়, যা উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় আশানুরূপ নয় বলে দাবি কৃষকদের।
মহিষকুন্ডি পাকুড়িয়া গ্রামের কৃষক শামিম হোসেন বলেন, “এবার ছয় বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু দাম আরেকটু বেশি হলে লাভটা বেশি হতো।” একই এলাকার আরেক চাষি মশিউর রহমান জানান, প্রতি বিঘায় ৫০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে, ফলন হতে পারে প্রায় ৪০ মণ। “দাম বাড়লে খরচ উঠিয়ে ভালো লাভ করা যেত,” বলেন তিনি।
উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আলী আহম্মেদ জানান, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকদের বাজার পরিস্থিতি ও সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
১৪৬ বার পড়া হয়েছে