শিল্প ও বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সাক্ষাৎকার
রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬ ২:৪২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম একান্ত আলাপচারিতায় তার রাজনৈতিক জীবন, নির্বাচনী অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।
দীর্ঘ ৩৫ বছরের রাজনৈতিক পথচলার নানা দিক তুলে ধরেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন 'এইমাত্র' অনলাইনের স্টাফ রিপোর্টার (ভৈরব, কিশোরগঞ্জ)।
নিচে সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো—
প্রশ্ন: এ নির্বাচনটি আপনার কাছে কেমন ছিলো?
প্রতিমন্ত্রী: এ নির্বাচনটি আমার রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, ত্যাগ ও ধৈর্যের ফলস্বরূপ জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন। এটি ছিলো জনগণের প্রতি আমার আস্থার এবং জনগণের আমার প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
প্রশ্ন: সারা দেশে ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন। এটাকী প্রত্যাশা করেছিলেন?
প্রতিমন্ত্রী: আমি সবসময় মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি, তবে এত বড় ব্যবধানে বিজয়ী হবো—এটা পুরোপুরি প্রত্যাশা করিনি। এটি আমার জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি দায়িত্বও অনেক বেড়ে গেছে।
প্রশ্ন: দীর্ঘ সময় পর এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, একই সঙ্গে মন্ত্রীও হয়েছেন। এতো পাওয়া আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
প্রতিমন্ত্রী: এটি আল্লাহর অশেষ রহমত এবং দলের আস্থা। আমি এটিকে ব্যক্তিগত প্রাপ্তি হিসেবে দেখি না; বরং জনগণের দায়িত্ব হিসেবে দেখি।
প্রশ্ন: ‘এ নির্বাচনে পরাজিত হতে পারেন!’ এমন মনে হয়েছে কখনো?
প্রতিমন্ত্রী: রাজনীতিতে সবকিছুই সম্ভব। তবে আমি জনগণের উপর ভরসা রেখেছি এবং শেষ পর্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ছিলাম।
প্রশ্ন: দীর্ঘ সময় আপনার দল সরকারের বাইরে থাকায় রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা হয়েছিলো কখনো?
প্রতিমন্ত্রী: কখনোই না। রাজনীতি আমার কাছে আদর্শ ও মানুষের সেবার পথ। প্রতিকূল সময় আমাকে আরও দৃঢ় করেছে।
প্রশ্ন: রাজনীতির ৩৫ বছরে কোন সময়টাতে আপনি হতাশ হয়েছেন?
প্রতিমন্ত্রী: রাজনৈতিক হয়রানির সময়গুলো কষ্টের ছিলো। তবে হতাশ হইনি। বরং সেখান থেকেই শিক্ষা নিয়েছি।
প্রশ্ন: আপনার গঠনমূলক সমালোচকদের কেমনভাবে নেবেন?
প্রতিমন্ত্রী: গঠনমূলক সমালোচনা আমি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করি। সমালোচনা মানুষকে শুদ্ধ হতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন: দলীয় কর্মীরা অন্যায়-অপরাধ করলে আপনার অবস্থান কী হবে?
প্রতিমন্ত্রী: অন্যায়-অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই। দলীয় পরিচয় কখনোই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
প্রশ্ন: রাজনীতিতে আপনার নিজের জন্য কোন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা স্বপ্ন আছে?
প্রতিমন্ত্রী: ব্যক্তিগত স্বপ্ন বলতে কিছু নেই। আমি চাই মানুষের কল্যাণে কাজ করতে এবং উন্নয়নমূলক রাজনীতির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে।
প্রশ্ন: প্রতিকূল রাজনীতি থেকে আপনি কী শিক্ষা নিয়েছেন?
প্রতিমন্ত্রী: ধৈর্য, সততা ও জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা—এই তিনটি বিষয়ই সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
প্রশ্ন: আপনার এলাকা তথা ময়মনসিংহ অঞ্চলের জন্য আপনার কী কী পরিকল্পনা রয়েছে?
প্রতিমন্ত্রী: শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন আমার অগ্রাধিকার। বিশেষ করে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চাই।
প্রশ্ন: কিশোরগঞ্জ থেকে বলতে দেখেছি “শরিফুল আলম ভৈরবের মন্ত্রী”—আপনি কি কিশোরগঞ্জ ও ভৈরবকে আলাদা মনে করেন?
প্রতিমন্ত্রী: মোটেই না। ভৈরব কিশোরগঞ্জেরই অংশ। আমি সমগ্র এলাকার মানুষের প্রতিনিধি।
প্রশ্ন: আপনার দৃষ্টিতে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী জিল্লুর রহমান কেমন রাজনৈতিক ছিলেন?
প্রতিমন্ত্রী: আমার সৌভাগ্য হয়েছিলো একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান-এর সঙ্গে নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছিলাম। তাঁর কাছ থেকে শিক্ষণীয় অনেক কিছু ছিলো। দোয়া করি আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন।
প্রশ্ন: ভৈরব ও কুলিয়ারচর নিয়ে আপনার বিশেষ কোন পরিকল্পনা রয়েছে?
প্রতিমন্ত্রী: ভৈরব ও কুলিয়ারচরকে শিল্প ও বাণিজ্যের হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও কাজ করবো।
প্রশ্ন: মন্ত্রী হওয়ার পর নির্বাচনী এলাকার জনগণের সাথে আপনার দূরত্ব কী বাড়বে?
প্রতিমন্ত্রী: কখনোই না। আমি সবসময় মানুষের পাশে ছিলাম, থাকবো। দায়িত্ব বাড়লেও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করবো।
২১৪ বার পড়া হয়েছে