বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন সম্মেলন ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:০২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহে মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীর টাউন হলের তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সম্মেলনে দলীয় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
সম্মেলনে মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ্ কায়সার সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল। নির্বাচনের পর দলের সম্মানিত আমীর ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান একাধিকবার জানিয়েছেন, দেশের শান্তি, উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকারকে সুরক্ষা দিতে জামায়াত সব সময় নিয়মতান্ত্রিক, দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, অনিয়মতান্ত্রিক ও হটকারী পদ্ধতিতে সহিংসতা কিংবা চরমপন্থার কোনো পথকে তারা ইসলামী পথ হিসেবে মনে করেন না। বিগত নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল বলে দাবি করে তিনি বলেন, এতে শুধু দল নয়, দেশের সাধারণ মানুষ এমনকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরাও বিস্মিত হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের দুই দিন আগে রাজধানী ত্যাগ করে নিজ নিজ গন্তব্যে যাওয়া মানুষের ঢল—ট্রেনের ছাদ, নৌকা, লঞ্চ ও বাসে উপচে পড়া ভিড়—বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে বিরল দৃশ্য। ভোটকেন্দ্রগুলোতেও ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, রাত নয়টার পর রহস্যজনকভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাফল প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। তার দাবি, ভোট গণনা ও ফলাফল তৈরির ক্ষেত্রে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রায় ৫০টির বেশি আসনে ১ থেকে ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে তাদের প্রার্থীদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন করা হয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ থাকা আসনগুলোতে পুনর্গণনা ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ইনসাফপূর্ণ সমাধান চাওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। তিনি বলেন, দেশ একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে, যা জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হবে। তার মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ দুই ধারায় বিভক্ত হওয়ার একটি চিত্র ফুটে উঠেছে—একদিকে ইসলামী আন্দোলনের আদর্শ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী শক্তি, অন্যদিকে ভারতের অনুসারী ও নাটকীয় কৌশলে ক্ষমতা ধরে রাখার শক্তি। তিনি দাবি করেন, শেষ পর্যন্ত এ শক্তির পরাজয় ঘটবে।
আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও নবনিযুক্ত ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, প্রায় দেড় বছর সময় পেয়ে তারা এ অঞ্চলে সাংগঠনিক কাজ করেছেন। তার অভিযোগ, নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে তাদের হারানো হয়েছে। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী মানবিক কল্যাণে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করতে চায়। ময়মনসিংহ অঞ্চলকে সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, যশোর, ঝিনাইদহ, রংপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মতো সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী এলাকায় পরিণত করার চেষ্টা করা হবে।
এছাড়া সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল করিম, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর আছাদুজ্জামান সোহেল, সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল হাসান শামীম ও আনোয়ার হাসান সুজন, সাংগঠনিক সেক্রেটারি আল হেলাল তালুকদার, অর্থ সম্পাদক গোলাম মহসিন খান, অফিস সেক্রেটারি খন্দকার আবু হানিফ, যুব বিভাগের সভাপতি ইঞ্জি. আব্দুল বারী, কর্মপরিষদ সদস্য মাস্টার হায়দার করিম, ডা. আব্দুল আজিজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
১২৯ বার পড়া হয়েছে