পীরগাছায় হামলা-অগ্নিসংযোগের অভিযোগে এক বছরেও বিচার হয়নি: ভুক্তভোগীদের ৪ দফা দাবি
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:৫১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় গুজব ছড়িয়ে মব সৃষ্টি করে হিজবুত তওহীদের সদস্যদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার এক বছর পার হলেও দৃশ্যমান আইনি অগ্রগতি না হওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাব হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে চার দফা দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে হিজবুত তওহীদের বিভাগীয় সভাপতি ও ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস শামীম বলেন, গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ছিদামহাট এলাকায় তার বাড়িতে আয়োজিত একটি প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়। অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতির নেতৃত্বে পাশের নাগদাহ এলাকা থেকে একটি মিছিল এনে মব তৈরি করা হয়। পরে হামলাকারীরা তার বাড়িসহ পরিবারের চারটি বসতঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়।
তিনি দাবি করেন, হামলায় পরিবারের ১৫ জন আহত হন, যাদের মধ্যে দু’জন স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। একই সময়ে সংগঠনের আরও চারটি পরিবারের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। ভাঙচুরের পর ২৩টি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয় এবং স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ ও খামারের ১২টি বিদেশি জাতের গরু লুট করে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদনেও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখ আছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এ ঘটনায় থানায় একটি এবং আদালতে পাঁচটিসহ মোট ছয়টি মামলা দায়ের করা হলেও এক বছরেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। সম্প্রতি আদালত থেকে দুটি মামলায় হাজিরার নোটিশ জারি হয়েছে। এর পর থেকেই আসামিপক্ষ মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে চার দফা দাবি জানানো হয়— থানায় দায়ের করা মামলার দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি পরিবারের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, আসামিদের করা কথিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের চিকিৎসা ব্যয় বহনসহ পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এ সময় ভুক্তভোগী আবুল কালাম, হাসানুর রহমান সাদ্দাম, জাফরুল ইসলামসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে পীরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মহিব্বুল ইসলাম বলেন, তিনি সম্প্রতি থানায় যোগ দিয়েছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে তদন্তে বিলম্ব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন মামলাগুলোর প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। পাশাপাশি কেউ হুমকি দিলে ভুক্তভোগীদের থানায় এসে আইনগত সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
১৯৮ বার পড়া হয়েছে