গাইবান্ধায় নিরাময় কেন্দ্রে নির্যাতনের অভিযোগ: জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে ৫
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:০৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
গাইবান্ধায় একটি বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পাঁচ আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (আজ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাইবান্ধা সদর আমলী আদালতের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুর রহমান এ আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন— জিইউকে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাধন (৩৫), লাবিব (৩২), শিহাব (৩৫), আতিফ (৩৬) ও তালহা (৩৫)। পরে তাদের গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
গাইবান্ধা সদর আমলী আদালতের কোর্ট উপপরিদর্শক আজিজুল ইসলাম দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মনজুরুল করিম সোহেল ও আবদুর রশিদ জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী আমিরুল ইসলাম ফকু জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, মুর্শিদ হক্কানী (৩৭) নামের এক ব্যক্তি, যিনি মানসিক ভারসাম্যহীন প্রকৃতির, গত বছরের ২৮ আগস্ট অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে গাইবান্ধা শহরের ভি-এইড রোডে অবস্থিত গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) পরিচালিত ‘জিইউকে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে’ ভর্তি করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, চিকিৎসাকালীন সময়ে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ করতে দেয়নি। পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে যোগাযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ১১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে স্বজনরা তাকে দেখতে গেলে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা অসংলগ্ন আচরণ করেন। পরে বেলা তিনটার দিকে মুর্শিদকে দেখার সুযোগ দিলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনরা।
পরিবারের অভিযোগ, পরে বাসায় নিয়ে গেলে মুর্শিদ জানান, তাকে কেন্দ্রের একটি কক্ষে নিয়ে মুখে কাপড় গুঁজে লোহার রড দিয়ে হাত, পিঠ, উরু, হাঁটু ও নাকে মারধর করা হয়। এমনকি রশি দিয়ে পা বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়। নির্যাতনের কথা কাউকে জানালে ক্ষতির হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অসুস্থ অবস্থায় ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৩ ফেব্রুয়ারি তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় ভাই আওরঙ্গ হক্কানী ১৪ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। সাতদিন পর, ২১ ফেব্রুয়ারি মামলাটি রেকর্ড করা হয়। বাদী সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
২১৮ বার পড়া হয়েছে