এআই উন্নয়নে মানবকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার আহবান নরেন্দ্র মোদির
সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১:৪৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়নে মানবকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি যেন মানুষের নিয়ন্ত্রক না হয়ে মানুষের সেবক হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
সামিটে বিশ্বের শতাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তিবিদ ও উদ্ভাবকরা অংশ নেন। সম্মেলনে এআই-এর ভবিষ্যৎ, সম্ভাবনা, ঝুঁকি ও নীতিগত কাঠামো নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। উদ্বোধনী বক্তব্যে মোদি বলেন, মানব ইতিহাসে আগুন, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট যেমন সভ্যতার গতিপথ বদলে দিয়েছে, তেমনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও বৈশ্বিক পরিবর্তনের এক শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠছে। তবে এ প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণমুখী করতে হবে।
তিনি জানান, ভারতে এআই উদ্ভাবন ও ব্যবহারে একটি গণমুখী উদ্যোগ গড়ে উঠেছে। সম্মেলনের প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি উদ্ভাবকেরা তাদের অত্যাধুনিক এআই পণ্য ও সেবা উপস্থাপন করেন। প্রদর্শনী এলাকায় বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণ সামিটকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউপিআই কিংবা কোভিড টিকাদান কর্মসূচির মতো উদ্যোগে প্রযুক্তিকে সবার নাগালে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। একই ধারা অনুসরণ করে কৃষি, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও প্রতিবন্ধী সহায়তায় এআই প্রয়োগ বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি উদাহরণ হিসেবে ভারতের দুগ্ধ সমবায় সংস্থা Amul–এর ‘সরলাবেন’ নামের এআই-চালিত ডিজিটাল সহকারীর কথা উল্লেখ করেন, যা লাখো দুগ্ধচাষীকে নিজস্ব ভাষায় তাৎক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছে। পাশাপাশি ‘ভারত ভিস্টার’ নামের একটি এআই প্ল্যাটফর্ম কৃষকদের আবহাওয়া ও বাজারমূল্যসহ বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করছে।
সম্মেলনে ভারত ‘MANAV’ নামে একটি মানবকেন্দ্রিক এআই শাসন কাঠামোও উপস্থাপন করে। এতে নৈতিকতা, জবাবদিহি, জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবেশাধিকার এবং আইনসম্মত ও যাচাইযোগ্য ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ডিপফেইক ও ভুয়া তথ্যের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক মানদণ্ড প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মোদি। ডিজিটাল কনটেন্টে উৎস যাচাই ও ওয়াটারমার্কিং চালুর আহ্বান জানিয়ে তিনি শিশু ও তরুণদের জন্য নিরাপদ প্রযুক্তি পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইন্ডিয়া এআই মিশন’-এর আওতায় শক্তিশালী অবকাঠামো নির্মাণ, জিপিইউ স্থাপন এবং স্টার্টআপদের জন্য সাশ্রয়ী কম্পিউটিং সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় এআই রিপোজিটরি গড়ে তুলে ডেটা ও মডেলের প্রবেশাধিকার সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম যুব জনসংখ্যা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার ভিত্তিতে ভারত বৈশ্বিক এআই খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভারতে এআই উদ্ভাবন করে তা বিশ্বে সরবরাহ করতে হবে এবং মানবতার কল্যাণে প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।
১৩৬ বার পড়া হয়েছে