রমজানে নির্দেশনা উপেক্ষা, রাজশাহীর দুই স্কুলে চলছে ক্লাস
সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:২০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজশাহীতে পবিত্র রমজান মাসে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে দুটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্লাস চালু রাখার অভিযোগ উঠেছে।
এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন অভিভাবকরা; পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিক চাপের মধ্যে পড়ছেন শিক্ষার্থীরাও।
অভিযোগ অনুযায়ী, নগরীর উপশহর এলাকায় অবস্থিত সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং নওদাপাড়া এলাকার হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এ রমজানের শুরু থেকেই নিয়মিত ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় রমজানের সময় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছে, যাতে অভিভাবকদের দুর্ভোগ কমানো যায়। সে অনুযায়ী পহেলা রমজান থেকে বিদ্যালয় বন্ধ থাকার কথা। রাজশাহীর বেশিরভাগ স্কুল সরকারি নির্দেশনা মেনে চললেও, উল্লেখিত দুটি প্রতিষ্ঠান তা উপেক্ষা করে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। সাহরির পরপরই শিশুদের স্কুলে পাঠাতে গিয়ে দিন কাটছে বিশ্রামহীন অবস্থায়।
সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুলের এক অভিভাবক আসমাউল হুসনা বলেন,
“রাত ৪টায় উঠে রান্না করতে হয়। সাহরি শেষে নামাজ পড়তে পড়তে সকাল হয়ে যায়। তখন বিশ্রামের সুযোগ নেই। আবার বাচ্চাকে সকালে স্কুলে নিয়ে যেতে হচ্ছে, দুপুরে আনতে হচ্ছে। রোজার মধ্যে এটা খুব কষ্টকর।”
অন্য অভিভাবক মাজেদুর রহমান বলেন,
“আমরা সাহরির জন্য উঠলে বাচ্চারাও উঠে যায়। আবার সকালে স্কুলে যেতে হয়, ফলে তাদের ঘুম ঠিকমতো হচ্ছে না। এতে শিশুদের ওপর চাপ পড়ছে।”
অভিভাবকদের আপত্তির পর রোববার সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল কর্তৃপক্ষ একটি নোটিশ জারি করে। অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে জানানো হয়, সোমবার থেকে নিয়মিত ক্লাস বন্ধ থাকবে। তবে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অতিরিক্ত ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এই বিষয়ে অভিভাবক নাইমা পারভীন বলেন,
“এটা এক ধরনের কৌশল। কিছু শিক্ষার্থী গেলে অন্যরাও যেতে বাধ্য হবে, না হলে পিছিয়ে পড়বে। এতে কার্যত স্কুল খোলাই রাখা হচ্ছে।”
অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক জানান,
“অভিভাবকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিয়মিত ক্লাস বন্ধ করা হয়েছে। তবে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। সবাইকে আসতে হবে না।”
অন্যদিকে, নওদাপাড়ার হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এ রোববার থেকে সব শ্রেণির পাঠদান চালু রয়েছে। সকাল পৌনে ৯টা থেকে ক্লাস শুরু হওয়ায় দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের সকাল ৮টার আগে বাড়ি থেকে বের হতে হচ্ছে।
এক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“ছোট বাচ্চারা সাহরিতেও উঠে যাচ্ছে, আবার সকালে ঘুম ভাঙিয়ে স্কুলে পাঠাতে গেলে কান্না করছে। এতে তাদের মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি হতে পারে।”
হলিক্রস স্কুল কর্তৃপক্ষের মন্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
১০৪ বার পড়া হয়েছে