তেজগাঁও কলেজ শিক্ষার্থী ইকরাম হত্যায় দুই বন্ধুকে মৃত্যুদণ্ড
রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ রোববার তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী ইকরাম হোসেন মোল্লা হত্যার ঘটনায় তার দুই বন্ধুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
দণ্ডিতরা হলেন-ইকরামের বন্ধু শান্ত মিয়া এবং শান্তের বন্ধু আবু সিদ্দিক। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানান, হত্যার দায়ে দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া লাশ গুমের দায়ে তারা দু’জনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড কার্যকর হবে।
শান্ত মিয়া পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অপর আসামি আবু সিদ্দিককে আদালতে হাজির করা হলে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ইট-বালুর ব্যবসায় অংশ হিসেবে বন্ধু শান্তকে দুই লাখ টাকা দিয়েছিলেন ইকরাম। প্রতিমাসে হাত খরচা পাওয়ার কথা থাকলেও ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে সে টাকা পাননি। উল্টো নেশার কারণে ব্যবসার পুঁজি শেষ হয়ে যায়। টাকা চাওয়ায় এবং নেশাগ্রস্ত হওয়ার তথ্য জানালে শান্ত ক্ষুব্ধ হন। এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে শান্ত তার বন্ধু আবু সিদ্দিককে সঙ্গে নিয়ে ইকরামকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে।
ইকরাম ২০২৩ সালের ৪ মে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন।翌 দিন খিলক্ষেত থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। ৬ মে খিলক্ষেতের পাতিরা বালুর মাঠ থেকে ইকরামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের বাবা কবির হোসেন মোল্লা অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। খিলক্ষেত থানার পরিদর্শক এনামুল হক খন্দকার ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলায় ২৭ সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রোববার রায় ঘোষণা করা হলো।
১১৯ বার পড়া হয়েছে