শহীদ মিনারে মানুষের ঢল, শহীদদের প্রতি সর্বস্তরের শ্রদ্ধা
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭:০৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নামে সর্বস্তরের মানুষের ঢল।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় শহীদ মিনার চত্বর।
শনিবার সকাল গড়াতেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। শহীদ মিনারের দিকে ছিল দীর্ঘ সারি। শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যরা। অনেকেই খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নেন। কারো হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, কারো হাতে ব্যানার-ফেস্টুন।
শ্রদ্ধা জানাতে আসে ইডেন মহিলা কলেজ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ছায়ানট, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, টিআইবি, বাংলাদেশ স্কাউটস, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি, বিজেপি, জেপি, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জেএসডি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রমুখ। এছাড়া ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্রমৈত্রীর নেতাকর্মীরাও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-সহ রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পাশাপাশি ‘জুলাই ঐক্য’ ও ‘জুলাই মঞ্চ’ নামের সামাজিক সংগঠনগুলোর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
ব্যক্তিগতভাবেও অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে শহীদ মিনারে আসেন। শিশুদের হাত ধরে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতে দেখা যায় অভিভাবকদের। ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার বলেন, ভাষা আন্দোলন শুধু ইতিহাসের বিষয় নয়, এটি জাতির আত্মপরিচয়ের অংশ। প্রতি বছর এখানে এসে সেই ইতিহাস নতুনভাবে অনুভব করা যায়।
ধানমন্ডি থেকে বাবা-মামার সঙ্গে আসা ৯ বছর বয়সী সিনথিয়া তামান্না জানায়, মায়ের ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতেই তার আসা।
এর আগে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাত ১২টা ৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকেও ফুল দেওয়া হয়।
এরপর সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জোটের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একুশের প্রথম প্রহর থেকে দিনভর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আবেগে মুখর থাকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ-ভাষা শহীদদের প্রতি জাতির অমলিন কৃতজ্ঞতার প্রকাশে।
১২৮ বার পড়া হয়েছে