রোজা শুরুতেই নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি, লেবুর হালি ১০০ টাকার বেশি
বৃহস্পতিবার , ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৪:৪৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। ইফতারির অন্যতম উপকরণ লেবুর দাম বেড়ে এখন এক হালি (চারটি) ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিম মিলছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়—অর্থাৎ এক হালি লেবুর দামে প্রায় এক ডজন ডিম কেনা যাচ্ছে।
বুধবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আগারগাঁও তালতলা বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
দুই সপ্তাহ আগেও মাঝারি আকারের এক হালি লেবু ২০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হতো। বর্তমানে সেই লেবু ৬০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। বড় ও ভালো মানের লেবুর হালি কিনতে গুনতে হচ্ছে ১২০ টাকা পর্যন্ত। গত বছরের রমজান শুরুর আগে একই লেবু বিক্রি হয়েছিল ৪০-৫০ টাকায়।
ইফতারির জন্য ব্যবহৃত বেগুন, শসা, টমেটো ও গাজরের দামও বেড়েছে।
বেগুন কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৮০-১২০ টাকা। শসা ৮০-১০০ টাকা। টমেটো ও গাজর কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
গত বছরের তুলনায় এসব সবজির দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
পেঁয়াজ, মরিচ ও মুরগির দামও বাড়তি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়ে এখন ৫৫-৬০ টাকা। কাঁচা মরিচ ২০ টাকা বেড়ে ১৪০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দুই সপ্তাহ আগে ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল কেজিতে ১৬০-১৭০ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০-২২০ টাকায়। একই সময়ে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়ে ৩২০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, মুরগির বাচ্চার দাম বৃদ্ধি ও শীতকালে খামারে মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি রমজানকে ঘিরে চাহিদা বাড়াও দাম বৃদ্ধির কারণ।
তবে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে—প্রতি ডজন ১০৫-১১০ টাকা।
মাছ ও ফলের বাজারেও চাপ। চাষের তেলাপিয়া, পাঙাশ, পাবদা, কই, শিং, রুই ও কাতলার দাম কেজিতে ২০-৫০ টাকা বেড়েছে। তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২২০-২৫০ টাকায়। মাঝারি আকারের রুই বা কাতলা ৪০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিদেশি ফলের মধ্যে মাল্টা ও আপেলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।
মাল্টা কেজিতে ৩১০-৩৪০ টাকা, আপেল ৩৩০-৪০০ টাকা দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় এসব ফলের দাম ৫০-৮০ টাকা বেশি। দেশীয় ফলের মধ্যে কলা ডজনে ৩০-৬০ টাকা বেড়েছে। পেঁপে, পেয়ারা ও বরইও কেজিতে ১০-৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
সরবরাহ সংকট ও চাহিদার প্রভাব। সবজি বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুম শেষ হওয়ায় লেবুর সরবরাহ কমে গেছে। রমজান ঘিরে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দামও বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়ে তার প্রভাব পড়ছে। তবে তাঁদের ধারণা, এক সপ্তাহ পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
এদিকে খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে সংকট রয়েছে। মিনিকেট চালের দামও কেজিতে ৩-৪ টাকা বেড়েছে। তবে ছোলা, অ্যাংকর ডাল ও চিনির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল আছে।
নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট। রাজধানীর পল্লবীর এক পোশাকশ্রমিক শামসুল ইসলাম বলেন, রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি, প্রায় সব কটির দাম বেড়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
রোজা শুরুর আগেই বাজারে এভাবে মাছ, মাংস ও সবজির দাম বাড়ায় স্বস্তি নেই সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।
১০৭ বার পড়া হয়েছে