তালতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসকের উপস্থিতি নিয়ে অনিয়ম
সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১:১৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সরকারি প্রজ্ঞাপন, ছাড়পত্র ও আনুষ্ঠানিক যোগদান সম্পন্ন হলেও তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অর্থোপেডিক (হাড়-জোড়া) বিশেষজ্ঞ ডা. মোজাম্মেল হক দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন।
প্রশাসনিক নথিতে পদ পূর্ণ দেখানো হলেও হাসপাতালে তার উপস্থিতি নেই-ফলে কার্যত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০২৫ সালের ২০ আগস্টের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এ হাসপাতালে পদায়ন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২৩ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক যোগদান সম্পন্ন হয়। তবে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, যোগদানের পর থেকে তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। তিনি পদত্যাগও করেননি, আবার বেতনও উত্তোলন করছেন না। এতে প্রশাসনিকভাবে পদ খালি ঘোষণা করা যাচ্ছে না এবং নতুন চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে না। এক কথায়, কাগজে পদ পূর্ণ থাকলেও বাস্তবে সেবা শূন্য।
হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসক সংকট প্রকট। অনুমোদিত ১৪ জন মেডিকেল অফিসারের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন। প্রতি মাসে ইনডোর ও আউটডোর মিলিয়ে প্রায় ৯ হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এত বিপুল সংখ্যক রোগীর সেবা তিনজন চিকিৎসকের পক্ষে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা কার্যত অচল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাড় ভাঙা, জয়েন্টের জটিলতা বা দীর্ঘমেয়াদি অর্থোপেডিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা নিয়মিত সেবা পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে অনেককে বরগুনা সদর বা বরিশালে যেতে হচ্ছে। এতে সময়, অর্থ ও ঝুঁকি-তিনটিই বাড়ছে। অনেক রোগী জরুরি চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুঝুঁকিতে পড়ছেন বলেও দাবি করেন তারা।
উপজেলা হেলথ রাইটস ফোরামের সভাপতি মো. রাফিউল ইসলাম বলেন, 'কাগজে পদ পূর্ণ দেখিয়ে বাস্তবে চিকিৎসক না থাকা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। আড়াই লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অবিলম্বে পদ খালি ঘোষণা করে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দিতে হবে।'
এ বিষয়ে ডা. মোজাম্মেল হকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ভূপেন চন্দ্র মন্ডল বলেন, 'আমি যোগদানের আগ থেকেই তিনি অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত ছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।'
সরকারি আদেশ কার্যকর না হওয়া এবং প্রশাসনিক জটিলতায় তালতলীর স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি দিন দিন সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়বে।
১৫৪ বার পড়া হয়েছে