রাজশাহী বিভাগে নির্বাচন ও গণভোটে ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:২৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজশাহী বিভাগে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণকে ঘিরে পাঁচ স্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, গোয়েন্দা নজরদারি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট সম্পন্ন করার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, “নির্বাচন ও গণভোট একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার চেষ্টা হলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে।”
রাজশাহী বিভাগে মোট ৮টি জেলা, ৬৭টি উপজেলা, ১টি সিটি কর্পোরেশন, ৬২টি পৌরসভা ও ৫৬৫টি ইউনিয়ন রয়েছে। আনুমানিক ২ কোটি ৩ লাখ মানুষ বসবাস করছেন ১৮,১৫৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায়। চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬ জন। বিভাগে মোট ৫,২৮৭টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১,৭৬৭টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনায় ২১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৩৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোট ১ লাখ ৪,৬৬৬ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১০,০০০ জন, বিজিবির ৪,১২৩ জন, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ১৩,৭৯৬ জন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ২,৪০৫ জন, র্যাবের ১,০০৬ জন এবং আনসারের ৭২,৭৩৬ জন সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। প্রতিটি আসনে গড়ে ২,৬৬৮ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া ৫,২৬৬টি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং ২,৩১৮টি কেন্দ্রে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।
বিভাগীয় কমিশনার বজলুর রশীদ আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেনাবাহিনী ৫৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। একই সময়ে রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ ৭৪টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৪৩৩টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে ৪,৫৯৪টি। এছাড়া নির্বাচনকালীন সময়ে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিভাগীয় পর্যায়ে একটি কোর কমিটি সক্রিয় রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জয়েন্ট অপারেশন সেল চালু হয়েছে, যা ভোট-পরবর্তী সময় পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পাশাপাশি মিডিয়া সেলের মাধ্যমে নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
নির্বাচনী সামগ্রী বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে রাজশাহীর কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো শুরু হয়েছে। নয়টি উপজেলা সদর ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মাদ্রাসা মাঠ থেকে নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
রাজশাহীর ছয়টি আসনে মোট ৭৭৮টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে ৪৯০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে রাজশাহীতে ১৬,১১৩ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্য কাজ করবেন। এর মধ্যে পুলিশ ৩,৯৮২ জন, বিজিবি ৭৬০ জন, র্যাব ১৪৭ জন, সেনাবাহিনী ১,১১০ জন এবং আনসার সদস্য ১০,১১৪ জন। এছাড়া ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন। ভোটার সংখ্যা ২২ লাখ ৯১ হাজার ২০১ জন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩১ জন প্রার্থী।
১২৪ বার পড়া হয়েছে