ফরিদপুর ২ ও ৩ আসনে এগিয়ে নায়াব ইউসুফ ও শামা ওবায়েদ
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১:৫২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ সামনে রেখে ফরিদপুরে ভোটারদের মধ্যে শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ চলছে।
চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে ভোটাররা প্রার্থীর অতীত কাজ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেক ভোটার ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, আবার অনেকে শেষ মুহূর্তে দ্বিধায় ভুগছেন।
ফরিদপুরের চারটি আসনের মধ্যে দুটি আসনে এবার বিএনপির নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পুরুষ প্রার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই দুই নারী প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণায় বেশ সক্রিয় ও এগিয়ে রয়েছেন। তাদের পিতার রাজনৈতিক পরিচয় এই জনপ্রিয়তায় বড় ভূমিকা রেখেছে। ফরিদপুর-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম হলেন সাবেক মহাসচিব কে.এম ওবায়দুর রহমানের কন্যা এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। অপরদিকে ফরিদপুর-৩ আসনের প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রয়াত চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের কন্যা এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক।
উভয় প্রার্থী নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিরামহীন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মেলামেশা, সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণ করছেন।
এদিকে, জামায়াত সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের ফরিদপুর-২ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. আকরাম আলী (ধলা হুজুর) রিকশা প্রতিকে এবং ফরিদপুর-৩ আসনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী প্রফেসর আব্দুত তাওয়াব দাড়িপাল্লঅ প্রতিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ ও মো. আকরাম আলীর এবং ফরিদপুর-৩ আসনে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ ও প্রফেসর আব্দুত তাওয়াবের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
ফরিদপুর-২ আসনে আরও লড়ছেন- ইসলামী আন্দোলনের শাহ মো. জামাল উদ্দিন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আকরামুজ্জামান, গণ অধিকারের ফারুক ফকির এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. নাজমুল হাসান। ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন- কমিউনিস্ট পার্টির মো. রফিকুজ্জামান লায়েক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-এর আরিফা আক্তার বেবী, ইসলামী আন্দোলনের কে.এম. সরোয়ার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোরসেদুল ইসলাম আরিফ।
নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে পুরুষ প্রার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দুই নারী প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও চৌধুরী নায়াব ইউসুফ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভোটগ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টায় শুরু হবে। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ভোটকেন্দ্রে ব্যালটবক্স পৌঁছে গেছে।
নির্বাচনের আগে ফরিদপুর শহরের ঐতিহাসিক রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বিশাল জনসভায় ভোটার ও নেতা-কর্মীদের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
ফরিদপুর-৩ আসন (সদর) নিয়ে বিশেষভাবে বলা যায়, এখানে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৮ হাজার ৭৭৬ জন। ভোটকেন্দ্র ১৫৪টি, ভোটকক্ষ ৮৬৭টি এবং পোষ্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ৩ হাজার ৮৪৪ জন। প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, “আমার পরিবার ফরিদপুরে বিএনপিকে শক্তিশালী করেছে। আমার পিতা চৌধুরী কামাল ইউসুফ এই আসন থেকে পাঁচবার এমপি ছিলেন এবং তিনবার মন্ত্রী পদে ছিলেন। আমার পরিবারের ঐতিহ্য ও ফরিদপুরবাসীর ভালোবাসাই আমার রাজনীতির প্রেরণা। আমি আশা করি ভোটারগণ আমাকে জয়ী করবেন।”
ফরিদপুর-২ আসনের ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৮ হাজার ৪৯৭। ভোটকেন্দ্র ১১৭টি এবং ভোটকক্ষ ৬৪৯টি। পোষ্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ৩ হাজার ৫৪৪ জন। বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেন, “গত ১৫ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার মানুষ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে চায়। ভোটাররা আমাকে বিপুল ব্যবধানে জয়ী করবেন বলে আমার বিশ্বাস।”
সব মিলিয়ে ফরিদপুরে নির্বাচনী উৎসাহ-উদ্দীপনা চরমে। ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার আশায় উৎসাহী এবং জেলার নির্বাচন চিত্রে দেখা যাচ্ছে ব্যস্ততা, আলোচনার উন্মাদনা ও রাজনৈতিক উদ্দীপনা।
১২৩ বার পড়া হয়েছে