নগদ অর্থসহ আটক জামায়াত নেতা রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৫৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ আটক ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমীর বেলাল উদ্দিন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বুধবার বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বর্তমানে তিনি হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সিসিইউতে (CCU) চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, পুলিশি পাহারায় তার চিকিৎসা চলছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে কার্ডিওলজি বিভাগে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং প্রবেশপথে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
রোগীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে হাসপাতালে আসেন কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আজহারুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের জানান, বেলাল উদ্দিন ডায়াবেটিস ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আটকের সময় তিনি প্রচণ্ড ঘামছিলেন এবং অসুস্থতা অনুভব করলে প্রথমে তাকে সৈয়দপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে চিকিৎসক জানান।
এদিকে রংপুর মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেন হাসপাতালে এসে দাবি করেন, বেলাল উদ্দিনের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ৫০ লাখ টাকা তার ব্যবসার অর্থ। তিনি বলেন, একজন ব্যবসায়ীর কাছে এ পরিমাণ টাকা থাকা স্বাভাবিক। তাকে মিথ্যা অভিযোগে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, বেলালকে আটক করা হয়নি, তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন আনোয়ার। এ সময় রংপুর মহানগর ও জেলা জামায়াতের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দরে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেলাল উদ্দিন নিজেই স্বীকার করেন তার কাছে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ রয়েছে। তিনি জানান, তিনি শিক্ষকতা করেন এবং পাশাপাশি গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া এলাকায় তার বাড়ি এবং তার বাবার নাম দবির উদ্দিন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা থেকে বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন বেলাল উদ্দিন। একটি ব্যাগ হাতে নিয়ে তিনি বিমানবন্দরের ভেতরে ঘোরাফেরা করছিলেন। তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নজরদারি শুরু করেন। তারা তথ্য পান যে তিনি বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ বহন করছেন, যা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেনার উদ্দেশ্যে আনা হতে পারে বলে সন্দেহ করা হয়।
বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজেও তাকে ব্যাগ হাতে বের হওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। পরে বিমানবন্দর পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় তিনি নিজেই ব্যাগে ৫০-৬০ লাখ টাকা থাকার কথা স্বীকার করেন। তবে টাকার উৎস ও নির্বাচনের আগের দিন এত অর্থ বহনের কারণ সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। কখনও শিক্ষকতা, আবার কখনও গার্মেন্টস ব্যবসার টাকা বলে দাবি করেন। ব্যবসার সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে না পারায় পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত অর্থ গণনা শুরু হলে তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং ঘামতে থাকেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তবে এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত হতে পারেনি, ঠিক কী উদ্দেশ্যে তিনি এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ বহন করছিলেন।
১১৯ বার পড়া হয়েছে