মোংলা ও রামপালে ভোটের লড়াই; কার দখলে যাবে আওয়ামী লীগের দুর্গ
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:১৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসনের ভোটের রাজনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগের ‘শক্ত ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার দলটির কোনো প্রার্থী নেই।
ফলে নৌকাবিহীন এই মাঠে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করা আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংকই এবার নির্বাচনের ‘ট্রম্প কার্ড’। এই ‘নীরব ভোট’ যে বাক্সে যাবে, বিজয়ের হাসি হাসবেন সেই প্রার্থীই।
গুরুত্বপূর্ণ আসন ও অতীতের সমীকরণ সুন্দরবন সংলগ্ন মোংলা সমুদ্র বন্দর ও রামপাল উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন এবং মোংলা পোর্ট পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯১ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করেছে। বিএনপি ও জামায়াত কখনো এককভাবে, কখনো জোটবদ্ধভাবে লড়লেও জয়ের দেখা পায়নি। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি পুরো সমীকরণ উল্টে দিয়েছে।
নির্ণায়ক যখন ‘নীরব ভোটার’ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে বাড়িঘর ছাড়া এসব নেতাকর্মী ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে তাদের রেখে যাওয়া পরিবার-পরিজন এবং সাধারণ সমর্থকদের বিশাল অংশটি এখন পর্যন্ত নিশ্চুপ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নীরব অংশের ভোট এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট-যারা অতীতে নৌকায় ভোট দিতেন-এবার তাদের সিদ্ধান্তই প্রার্থীর ভাগ্য গড়ে দেবে।
প্রার্থীদের বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতি মাঠ দখলে রাখতে বিএনপি ও জামায়াত উভয়ই জোর প্রচারণা চালাচ্ছে। বিএনপির প্রার্থী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, 'বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। গত ২০ বছর ধরে আমি মোংলা-রামপালের মানুষের পাশে আছি। ভোটের স্বার্থে নয়, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। আশা করি মানুষ দলমত নির্বিশেষে যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নেবে।'
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ শেখ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, 'সরকার পতনের পর এলাকায় সন্ত্রাস ও রাহাজানি ঠেকাতে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় জামায়াত নিরলস কাজ করেছে। অতীতের জনকল্যাণমূলক কাজের প্রতিদান হিসেবে ভোটাররা আমাদের রায় দেবেন।'
মাঠের চিত্র সরেজমিনে দেখা যায়, বিএনপি, জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড চষে বেড়াচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
তবে এই আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রচারণা সীমিত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ এইচ সেলিমের কোনো প্রচারণা চোখে পড়েনি।
ভোটারদের ভাবনা ও পরিসংখ্যান সাধারণ ভোটাররা বলছেন, এবার তারা দলীয় প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ, সততা ও কাজের রেকর্ডকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৪ জন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে এই বিপুল সংখ্যক ভোটার তাদের রায় জানাবেন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ওইদিন গভীর রাতেই জানা যাবে, মোংলা-রামপালের নতুন অভিভাবক কে হচ্ছেন।
১৩৩ বার পড়া হয়েছে