গণভোট ‘প্রহসনে’ পরিণত হওয়ার আশঙ্কা সুজনের
রংপুরের ভোটারদের গণভোট নিয়ে ন্যূনতম ধারনা নেই
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৪:৪৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রংপুর বিভাগে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য গণভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অজ্ঞতা ও অনাগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। সরেজমিনে বিভাগটির আট জেলার ৩৩টি সংসদীয় আসন ঘুরে দেখা গেছে—শ্রমজীবী, কর্মজীবী, হতদরিদ্র মানুষ থেকে শুরু করে নারী ভোটার ও বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ শিক্ষার্থীদের বড় অংশই জানেন না কেন গণভোট হচ্ছে কিংবা কী বিষয়ে এই গণভোট।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নেতারা বলছেন, পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণার অভাবে গণভোট সাধারণ মানুষের কাছে কোনো আবেদন সৃষ্টি করতে পারেনি। ফলে এটি একটি প্রহসনে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রংপুর বিভাগের আট জেলার ৩৩টি আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের মাত্র দুই দিন বাকি থাকলেও গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর তেমন কোনো সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে ভোটারদের সচেতন করতে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রচার চোখে পড়েনি।
রংপুর-৬ আসনের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে গিয়ে অন্তত ৭৫ জন ভোটারের সঙ্গে কথা বলা হলেও একজনও গণভোট সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারণা দিতে পারেননি। ওই গ্রামেই জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাইদের কবর অবস্থিত। নিয়মিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সরকারি কর্মকর্তারা সেখানে গেলেও স্থানীয়রা গণভোট সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
গ্রামের দুই মাদ্রাসা শিক্ষক ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন বলে জানালেও কেন দেবেন—সে বিষয়ে তারা কিছু বলতে পারেননি। একই গ্রামের ৪০ জনের বেশি নারী ভোটারের সঙ্গেও কথা বলে জানা গেছে, তাদের কেউই জানেন না যে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে কিংবা কী কারণে এটি হচ্ছে।
একই চিত্র খালাসপীর গ্রামেও। সেখানে অন্তত ২০ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গণভোট কী—তা কেউই জানেন না। তবে দুজন কলেজ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, মাইকিংয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কথা শুনেছেন, কিন্তু বিষয়বস্তু জানেন না।
রংপুর মহানগরী ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও একই অবস্থা। নতুন ভোটার আফরিন তাবাসসুম জানান, তিনি ভোট দিতে গ্রামের বাড়ি যাবেন, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ তাকে গণভোট সম্পর্কে কিছু জানায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার দেখলেও গণভোটের কারণ বা বিষয় তার অজানা।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কথা বলে জানা গেছে, খুব অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী জানেন কেন গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও গণভোট নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান বা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা মূলত ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইছেন, গণভোট নিয়ে তাদের তেমন আগ্রহ নেই। যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরাও একই মনোভাব পোষণ করেন।
জাতীয় পার্টির মহানগর নেতারা গণভোটে ‘না’ ভোট কিংবা বর্জনের আহ্বানের কথা জানালেও তাদের মূল প্রচারণা লাঙ্গল প্রতীকেই সীমাবদ্ধ। বাম জোট নেতারা বলছেন, গণভোটের কোনো কার্যকর প্রচার নেই বললেই চলে।
মানবাধিকারকর্মী আফসারা শাহ বলেন, নারী ভোটারদের প্রায় ৯৫ শতাংশই জানেন না কেন গণভোট হচ্ছে। তিনি এই অবস্থার জন্য সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার-প্রচারণার ঘাটতিকে দায়ী করেন।
সুজন রংপুর জেলা সভাপতি অধ্যাপক খায়রুল আনাম বেগ চরম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “এ অঞ্চলের মানুষ, বিশেষ করে নারীরা, গণভোট সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানেন না। এভাবে হলে গণভোটের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যাবে।”
তবে এনসিপি ও জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মিছিল ও প্রচার চালিয়ে যাওয়ার দাবি করেছেন। যদিও নগরীর টাউন হল সংলগ্ন এলাকায় নির্মিত মঞ্চে তেমন জনসমাগম বা দৃশ্যমান প্রচার লক্ষ্য করা যায়নি।
১১৮ বার পড়া হয়েছে