জাতির উদ্দেশে ভাষণ
নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বিএনপির
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৪:১২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন কেবল ক্ষমতা বদলের নয়—এটি রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্বাচন। তিনি দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সোমবার রাতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে তারেক রহমান বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের মূল দিক এবং একটি স্বনির্ভর, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হারানো রাজনৈতিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সে লক্ষ্যেই সব শ্রেণি–পেশার মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
ভাষণের শুরুতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। দীর্ঘ আন্দোলন–সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে জনগণের কাছে রাষ্ট্রের মালিকানা ফেরানোর সময় এসেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গত দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এই সময়ে গণতন্ত্রকামী মানুষ গুম, খুন ও অপহরণের শিকার হয়েছে। তিনি ‘আয়নাঘর’কে ‘জ্যান্ত মানুষের কবরস্থান’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০–এর বেশি মানুষের মৃত্যু ও তিন হাজারের বেশি আহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। নিহতদের মাগফিরাত এবং আহত ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে তারেক রহমান জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে পর্যায়ক্রমে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তরুণ, বেকার জনগোষ্ঠী ও নারীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাকে দলের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সামাজিক সুরক্ষার অংশ হিসেবে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এর আওতায় মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা বা সমমূল্যের খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে। কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালু করে আর্থিক সহায়তা ও সার–বীজে ভর্তুকির কথা জানান তিনি।
নারী শিক্ষার ধারাবাহিকতা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, স্নাতক পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষা অব্যাহত থাকবে। কর্মস্থলে ডে-কেয়ার ও ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপন, নারীদের জন্য বিশেষায়িত বৈদ্যুতিক পরিবহন চালু এবং সাইবার বুলিং ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের কথা বলেন তিনি। শহরে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেট নির্মাণের ঘোষণাও দেন।
শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে মাধ্যমিক স্তর থেকেই কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ রাখার কথাও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যসেবায় ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’ নীতি গ্রহণের কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সারা দেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দেওয়া হবে, যাদের বড় অংশ নারী। তাঁরা ইউনিয়ন পর্যায়ে ঘরে ঘরে প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ দেবেন।
প্রশাসনে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য সময়মতো জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত ১৫ বছরে প্রতিবছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার বন্ধ করা গেলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন সহজ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান জানান, এতে বিমানবন্দরে হয়রানি কমবে এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। বিদেশগামী কর্মীদের জন্য জামানতবিহীন সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থার কথাও বলেন তিনি।
ধর্মীয় বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন করা হবে। ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এই নীতিতে সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ইমাম, মোয়াজ্জিনসহ ধর্মগুরুদের রাষ্ট্রীয় সহায়তার কথা জানান।
ভাষণের শেষাংশে আবেগঘন কণ্ঠে ভোটারদের ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারুণ্যের প্রথম ভোট হোক ধানের শীষে।
১২১ বার পড়া হয়েছে