আজ থেকে ভোটের মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, থাকবে এক হাজারের বেশি ম্যাজিস্ট্রেট
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:৫৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আজ রোববার থেকে সারাদেশে মাঠে নামছে সেনাবাহিনীসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ভোটের আগে ও পরে মোট সাত দিন নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকবেন তারা। এ সময়ে মাঠে কাজ করবেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সেনাবাহিনী আগেই প্রস্তুত ছিল, রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও জোরদার করা হচ্ছে মোতায়েন। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে বাহিনীগুলো দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে ইসির কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং ‘সুরক্ষা’ অ্যাপের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তথ্য পাবে কমিশন।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে শঙ্কামুক্ত ও নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে তারা আশ্বস্ত করেছে—দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নির্বাচনের জন্য সহায়ক রয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, সব ব্যালট বাক্স ইতোমধ্যে জেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে এবং রিটার্নিং অফিসাররা সেগুলো গ্রহণ করছেন। নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীতে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন চললেও ভোটের পরিবেশ বিবেচনায় এসব কর্মসূচি আপাতত পরিহারের পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনার জানান, ভোটের আর চার দিন বাকি। প্রচার শেষ হবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায়। ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে প্রস্তুত—এমনটাই মনে করছে কমিশন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন বাহিনী মোতায়েন থাকবে। স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীও দায়িত্ব পালন করবে। মোট প্রায় ৯ লাখ সদস্য নির্বাচনি দায়িত্বে থাকবেন। এর মধ্যে আনসার ও ভিডিপির প্রায় সাড়ে ৫ লাখ, পুলিশের দেড় লাখ, সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ এবং বিজিবির ৩৫ হাজার সদস্য মাঠে থাকবেন।
পরিপত্রে আরও বলা হয়, সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবে সংশ্লিষ্ট বাহিনী। উপকূলীয় এলাকায় থাকবে কোস্টগার্ড। সব বাহিনী রিটার্নিং অফিসারের কাছে রিপোর্ট করবে এবং তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬–১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭–১৮ জন করে সদস্য মোতায়েন থাকবে। মেট্রোপলিটন এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন দায়িত্ব পালন করবেন। দুর্গম ঘোষিত ২৫ জেলার নির্দিষ্ট এলাকায় ১৬–১৮ জন করে সদস্য থাকবেন। ভোটের দুদিন আগে থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত তারা দায়িত্বে থাকবেন।
এবার ২৯৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২ হাজার ৯ জন প্রার্থী। এর মধ্যে আড়াই শতাধিক স্বতন্ত্র, বাকিরা ৫১টি রাজনৈতিক দলের। প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের জন্য ৩০০ আসনে স্থাপন করা হয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আচরণবিধি তদারকির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করবেন এবং প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।
১১৯ বার পড়া হয়েছে