সর্বশেষ

জাতীয়জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা, ভোট উৎসবের আমেজ
নির্বাচনের তিন দিন আগে ঢাকা-১৮ আসনে মান্নার প্রার্থিতা প্রত্যাহার
আজ সুপ্রিম কোর্টে ফুল কোর্ট সভা ডেকেছেন প্রধান বিচারপতি
আজ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে উপদেষ্টা ও সচিবদের বৈঠক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি আজ, কমতে পারে শুল্ক
আজ থেকে মাঠে সেনাসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, থাকছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
সারাদেশলক্ষ্মীপুর-৪: দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত অবধারিত, জামায়াত প্রার্থীর ভিডিও ভাইরাল
আন্তর্জাতিকজাপানের সাধারণ নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির দল
খেলাপাকিস্তানে গেলেন বিসিবি সভাপতি, যোগ দেবেন আইসিসি সভায়
আন্তর্জাতিক

আজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি, শুল্ক হ্রাসের সম্ভাবনা

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:০২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে আজ সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুল আলোচিত পাল্টা (রেসিপ্রোকাল) শুল্ক–সংক্রান্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সই করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত বাংলাদেশের তৈরি পোশাক সে দেশের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত বিদ্যমান ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কমার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

তবে সরকারের মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করা কতটা যুক্তিসংগত—তা নিয়ে রাজনৈতিক ও নীতিগত মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের ভাষ্য, এটি নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে চলমান আলোচনারই অংশ, যা দেশের রপ্তানি ও কর্মসংস্থান সুরক্ষার স্বার্থে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আজ ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা) আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত থাকছেন না বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে, যাদের উপস্থিতিতে অনলাইন মাধ্যমে যুক্ত হবেন উপদেষ্টা ও সচিব।

প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) অনুবিভাগের প্রধান খাদিজা নাজনীন। দলের অন্য সদস্যরা হলেন—যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ শামসুল আরেফীন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কমিশনার রইছ উদ্দিন খান।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, চুক্তিতে ঢাকায় বসেই স্বাক্ষর করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। তাঁর স্বাক্ষরিত কপি ওয়াশিংটনে নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে চুক্তিতে সই করবেন দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রিয়ার।

গতকাল রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় আরোপ করা অতিরিক্ত ২০ শতাংশ শুল্ক আরও কমানো যেতে পারে। তবে শুল্ক কত শতাংশে নেমে আসবে—সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে চাননি তিনি। তাঁর মতে, আলোচনার মাঝপথে এমন মন্তব্য দরকষাকষিতে জটিলতা তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনাই লক্ষ্য। চুক্তি চূড়ান্ত হলে উভয় পক্ষের সম্মতিতে শর্তাবলি প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচনের প্রাক্কালে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের ঝুঁকি এড়াতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। বড় রপ্তানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে লাখো শ্রমিকের চাকরি হুমকির মুখে পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে বড় অঙ্কের ক্রয় প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। সে বাস্তবতায় বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় থাকা ছাড়া বিকল্প নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে বাণিজ্য উপদেষ্টা দাবি করেন, প্রাথমিক পর্যায়েই আলোচনার নথি প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ কিছুটা বিব্রত হয়েছে। তাঁর মতে, নথি ফাঁস না হলে শুল্ক ২০ শতাংশের নিচে নামানোর সুযোগ আরও বেশি ছিল। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় জরুরি অবস্থার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক কাঠামোর আওতায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা করছে, বাংলাদেশও সেই প্রক্রিয়ার অংশ।

তিনি জানান, আলোচনার নথি বাংলাদেশ থেকেই বাইরে গেছে, যদিও তাতে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার মতো কিছু ছিল না। চুক্তি সইয়ের পর উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।

চুক্তি আলোচনার অংশ হিসেবে বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও কথা বলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, এটি নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নয়; দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। বিমানের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে বহরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উড়োজাহাজ যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

বর্তমানে বিমানের কার্যকর উড়োজাহাজ প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকায় বিপুলসংখ্যক যাত্রী বিদেশি এয়ারলাইন্সে যাতায়াত করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। দেশের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি বলেও মন্তব্য করেন উপদেষ্টা। সম্ভাব্যভাবে এসব উড়োজাহাজ কিনতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে।

১১৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন