জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীরা সবচেয়ে নিরাপদ থাকবে: সাদিক কায়েম
শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:২৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নকিপুর ফুটবল মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় জামায়াত নেতারা দেশের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, 'জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীরা সবচেয়ে নিরাপদ থাকবে। যাদের হাতে নিজেদের নেতাকর্মীরাই নিরাপদ নয়, তারা কিভাবে দেশকে নিরাপদ রাখবে?' তিনি আরও বলেন, জামায়াত যখন আগে ক্ষমতায় ছিল তখন দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়নি, বরং অন্যরা দেশকে দুর্নীতির চ্যাম্পিয়নে পরিণত করেছে। তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে ভোট দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।
শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল। তিনি বলেন, দেশের মানুষ আজ পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চায়। তার মতে, আসন্ন নির্বাচনে জনগণ ভোটের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ, দখলদার ও চাঁদাবাজদের প্রত্যাখ্যান করবে।
অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবসম্মত ও বিজ্ঞানভিত্তিক। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, কৃষি উন্নয়ন, সুশাসন এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থার সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি উপস্থিত জনতাকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা এবং ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনার জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী। এছাড়া বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমীর শহীদুল ইসলাম মুকুল, জেলা সেক্রেটারি আজিজুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তব্যের শুরুতে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম জুলাই আন্দোলনের শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর বিচারের দাবিতে উপস্থিত জনতাকে সঙ্গে নিয়ে স্লোগান দেন। তিনি বলেন, বিগত সময়ে সাতক্ষীরায় ব্যাপক জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে সাতক্ষীরার চারটি আসন জামায়াতের আমীরের নেতৃত্বকে উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের বন্দোবস্ত হবে, যেখানে হিংসা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কোনো স্থান থাকবে না। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে ৫৪ বছরের মাফিয়া শাসন ও অনিয়মের অবসান ঘটবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে শতাধিক নেতাকর্মী হারিয়েছে—তারা কীভাবে দেশবাসীকে নিরাপত্তা দেবে? জামায়াতে ইসলামীই জুলাই-পরবর্তী সময়ে মানুষের পাশে থেকে নিরাপত্তার হাত বাড়িয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। জামায়াত সরকার গঠন করলে মা-বোনেরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জনসভায় শ্যামনগরকে একটি উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ এলাকা উল্লেখ করে বক্তারা দীর্ঘদিনের সমস্যা তুলে ধরেন। নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও উপকূল সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নদীভাঙন প্রতিরোধ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ, রেললাইন স্থাপন, সুন্দরবনকে পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর, রাস্তাঘাট সংস্কার, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি উত্থাপন করা হয়।
কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল ওহাব সিদ্দিকীর স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জনসভা শুরু হয়। এতে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. খলিলুর রহমান মাদানী, জকসু এজিএস মাসুদ রানা, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী বাবু কৃষ্ণ নন্দী, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক মো. আমিরুল ইসলাম, সাবেক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সভাপতি আব্দুর রহিম এবং জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল।
১২৩ বার পড়া হয়েছে