শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে পিরোজপুরে বিক্ষোভ, পুলিশের ভূমিকার প্রতিবাদ
শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৬:৩২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
শহীদ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের হামলা ও গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে পিরোজপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সাধারণ ছাত্র-জনতা। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এ হত্যাকাণ্ডের আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় আজ শনিবার সকালে।
সকাল ১০টার দিকে জেলা শহরের গোপাল কৃষ্ণ সুপার মার্কেট সংলগ্ন টাউন ক্লাব এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। পরে মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পিরোজপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার ও পুলিশের দমনমূলক ভূমিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ‘আমি কে, তুমি কে—হাদি হাদি’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’ এবং ‘জাবেরের ওপর হামলা কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’—এমন স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
সমাবেশে বক্তারা সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে পুলিশের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আফরোজা তুলি বলেন, ন্যায়বিচার চাওয়াই যদি অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে তা রাষ্ট্রের জন্য চরম লজ্জার। তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের বিপ্লব এখনও শেষ হয়নি এবং দমন-পীড়নের মাধ্যমে এই আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না।
বক্তারা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, পুলিশের এমন আচরণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। তবে একই সঙ্গে তাঁরা বলেন, নির্বাচন অবশ্যই অনুষ্ঠিত হতে হবে এবং নির্বাচিত সরকারের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত শহীদ ওসমান হাদি হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
সমাবেশ থেকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের হামলাকে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বক্তারা বলেন, এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে। অবিলম্বে হত্যাকাণ্ড ও হামলার বিচার না হলে ছাত্র-জনতা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
১৫৭ বার পড়া হয়েছে