দিরাই-শাল্লায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের একই মঞ্চে আমন্ত্রণ
সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭:৪৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
স্থানীয় উন্নয়ন, রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও সহনশীলতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে তিন দফায় গণসমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এসব সমাবেশে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদেরও বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
দিরাই-শাল্লা উন্নয়ন ফোরামের আয়োজনে এবং শিশির মনিরের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচির তথ্য তিনি তার অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টে প্রকাশ করেন। জানা গেছে, আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টায় ব্রজেন্দ্রগঞ্জ আর.সি. উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ (শ্যামারচর বাজার) প্রাঙ্গণে প্রথম গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি শাল্লা উপজেলার শহীদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এবং ৯ ফেব্রুয়ারি দিরাই পৌরসভার মিনি স্টেডিয়ামে ধারাবাহিকভাবে আরও দুটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং সব দলের মতপ্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। এজন্য বিএনপি প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী ও সিপিবির প্রার্থী অ্যাডভোকেট নিরঞ্জন দাস খোকনকে সমাবেশে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তবে আমন্ত্রণ পেলেও সিপিবির প্রার্থী অ্যাডভোকেট নিরঞ্জন দাস খোকন সমাবেশে যোগ না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'শিশির মনিরের পক্ষ থেকে চিঠি পেয়েছি। কিন্তু আদর্শিক অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় সেখানে উপস্থিত থাকা সম্ভব নয়। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শভিত্তিক কোনো কর্মসূচি হলে অংশ নিতাম।'
এদিকে বিএনপি প্রার্থী নাছির চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার ঘনিষ্ঠজন ও দিরাই উপজেলা বিএনপি নেতা রৌদ্র মিজান জানান, নাছির চৌধুরী এমন কোনো চিঠি পাননি। তিনি বলেন, 'দাওয়াত দিতেই পারেন। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক নীতির সঙ্গে বিষয়টি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী কোনো ব্যক্তির আয়োজনে আমরা অংশ নেব না।'
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী শিশির মনির বলেন, 'প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখতে আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আশা করছি তারা উপস্থিত হয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন। দিরাই-শাল্লায় একটি ইতিবাচক ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠুক-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।'
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ উদ্যোগ নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে ভিন্নধর্মী ও সহনশীল রাজনৈতিক চর্চার প্রয়াস হিসেবে দেখছেন।
১১৯ বার পড়া হয়েছে