সাতক্ষীরায় কুল ফলন বাম্পার, বাজারে প্রতিদিন যাচ্ছে ট্রাকভরে
সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৮:১৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরার কুল এখন সারাদেশেই পরিচিত ও জনপ্রিয়। চলতি মৌসুমে জেলায় কুলের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।
আমের পর বাণিজ্যিকভাবে কুলের চাহিদা দ্রুত বাড়ায় এই অঞ্চলের কৃষকরা দিন দিন কুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
অল্প সময়ে বেশি লাভ পাওয়া যায়-এমন ধারণা থেকেই প্রতি বছর সাতক্ষীরায় কুলের আবাদ বাড়ছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রতিদিন ট্রাকভর্তি কুল যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলা, যার মধ্যে রয়েছে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম।
জেলার সাতটি উপজেলাতেই কুলের চাষ হলেও কলারোয়া, তালা ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় উৎপাদিত কুল বিক্রি করে প্রায় ১৫০ থেকে ১৬০ কোটি টাকা আয় হতে পারে।
জেলার বিভিন্ন বাগানে নারিকেল কুল, টক কুল, থাই আপেল কুল ও বল সুন্দরী কুলসহ নানা জাতের কুল গাছে গাছে ঝুলছে। কুল সংগ্রহ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিক ও শ্রমিকরা। বাগান থেকেই খুচরা বিক্রেতারা কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা দরে কুল কিনে নিচ্ছেন। পরে বাছাই ও প্যাকেটজাত করে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।
তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা এলাকার কুল চাষি মো. আব্দুল গফফার ও আব্দুস সমাদ মোড়ল জানান, প্রথমে তিন বিঘা জমিতে কুল চাষ শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তা বেড়ে সাত বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের কুল চাষ করছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত কুল উৎপাদন হচ্ছে।
একই কথা জানান আরেক কুল চাষি আব্দুস ছালাম। তিনি বলেন, জাতভেদে কুলের দাম কেজিপ্রতি ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে কুল বাগানে কাজ করে পাওয়া পারিশ্রমিকে স্বচ্ছলভাবে সংসার চালাতে পারছেন বলে জানান নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, 'কুল একটি লাভজনক ফসল। কুল বাগানের পাশাপাশি শাক-সবজির চাষ করা যায়, যা কৃষকদের অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত করে। এ কারণে জেলায় কুল চাষ দিন দিন বাড়ছে।'
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জেলায় ৮৩০ হেক্টর জমিতে কুল চাষ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪৬ হেক্টরে। এসব জমি থেকে উৎপাদিত কুল বিক্রি করে ১৫০ থেকে ১৬০ কোটি টাকা আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
১২২ বার পড়া হয়েছে